কৃষকদের জন্য বড় সতর্কতা! ২২তম কিস্তির আগে এই রেজিস্ট্রেশন জরুরি

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা (PM-Kisan) দেশের কোটি কোটি কৃষকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা তিনটি কিস্তিতে (প্রতিটি ২,০০০ টাকা করে) সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের ২১টি কিস্তি জারি হয়েছে এবং প্রায় ৯ কোটি কৃষক এখন ২২তম কিস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে, ফার্মার আইডি (Farmer ID) ছাড়া কি ২,০০০ টাকার পরবর্তী কিস্তি পাওয়া যাবে? এই বিষয়ে সম্প্রতি সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।

কোন কৃষকদের জন্য ফার্মার আইডি বাধ্যতামূলক?

রাজ্যসভায় দেওয়া এক লিখিত উত্তরে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে ফার্মার আইডি সব রাজ্যে সব কৃষকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যেসব ১৪টি রাজ্যে ফার্মার আইডি ব্যবস্থা চালু হয়েছে, সেখানে নতুন করে যারা PM-Kisan-এ নাম নথিভুক্ত করবেন, তাদের জন্য ফার্মার আইডি বাধ্যতামূলক।

   

অন্যদিকে, যেসব রাজ্যে এখনও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি, সেখানে বর্তমান উপভোক্তারা ফার্মার আইডি ছাড়াও আপাতত PM-Kisan প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন। তাই এই রাজ্যগুলির কৃষকদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন করে আবেদন করার আগে নিজের রাজ্যে ফার্মার আইডি বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

কেন চালু করা হচ্ছে ফার্মার আইডি?

ফার্মার আইডির মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে প্রকল্পের টাকা শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছাবে। এই আইডির সঙ্গে কৃষকের জমির তথ্য, আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে যুক্ত থাকে। এর ফলে ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া সহজ হয়। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি কৃষি প্রকল্পেও এই ফার্মার আইডি ব্যবহার করা হবে।

ফার্মার আইডি না থাকলে কি কিস্তি বন্ধ হতে পারে?

যেসব রাজ্যে ফার্মার আইডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফার্মার আইডি না করালে ২,০০০ টাকার পরবর্তী কিস্তি আটকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃষকের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তাই ওই রাজ্যগুলির কৃষকদের দ্রুত ফার্মার আইডি করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফার্মার আইডির জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন?

যেসব কৃষকের নামে কৃষিজমি রয়েছে, তারাই ফার্মার আইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরাও এর আওতায় পড়বেন। জমির নথি সঠিক হওয়া এবং আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকা আবশ্যক।

প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদন পদ্ধতি:

ফার্মার আইডির জন্য সাধারণত আধার কার্ড, জমির দলিল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর লাগবে। বেশিরভাগ রাজ্যে অনলাইনে রাজ্য কৃষি দপ্তরের পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। OTP যাচাইয়ের পর ফার্মার আইডি ইস্যু করা হয়।

শেষ কথা:

যদি আপনার রাজ্যে ফার্মার আইডি চালু হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত নিবন্ধন করুন। ভবিষ্যতে সব রাজ্যেই এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমানের।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন