২০২৬ থেকে এটিএম-ইউপিআইয়ে পিএফ তোলা যাবে, বড় ঘোষণা EPFO-র

EPF Salary Limit Increase

লক্ষ লক্ষ ইপিএফও (EPFO) গ্রাহকের জন্য বড় সুখবর। পিএফ তোলার দীর্ঘদিনের জটিল প্রক্রিয়া এবার পুরোপুরি বদলাতে চলেছে। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক পিএফ উইথড্রয়াল ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে কর্মীরা সরাসরি এটিএম ও ইউপিআই-এর মাধ্যমে নিজেদের ইপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন। এই পদক্ষেপ কর্মীদের জরুরি আর্থিক চাহিদা পূরণে বড় স্বস্তি দেবে।

শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়ার বড় ঘোষণা:

কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া জানিয়েছেন, ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ সম্পূর্ণভাবে কর্মীর নিজস্ব। কিন্তু বর্তমানে সেই টাকা তুলতে গিয়ে কর্মীদের নানা ফর্ম পূরণ, অনলাইন আবেদন এবং নিয়োগকর্তার অনুমোদনের মতো একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। এতে অনেক সময় ক্লেম রিজেক্ট হয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতেই সরকার পিএফ তোলার পদ্ধতিকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

   

এটিএম ও ইউপিআই-এর মাধ্যমে পিএফ তোলার সুবিধা:

প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় পিএফ তোলা হবে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার মতোই সহজ। একবার এই পরিষেবা চালু হলে, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা অন্য যে কোনও প্রয়োজনে কর্মীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইউপিআই ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে পারবেন অথবা নিকটবর্তী এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে পারবেন। এই সিস্টেমটি ইপিএফও-র কেন্দ্রীয় আইটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যার ফলে রিয়েল-টাইমে লেনদেন সম্পন্ন হবে।

ফর্ম ও অফিসে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি:

বর্তমানে পিএফ তুলতে গেলে অনলাইন পোর্টালে সঠিক ফর্ম নির্বাচন, তথ্য আপলোড এবং অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সামান্য ভুল হলেই আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় এই সমস্ত ধাপ অনেকটাই কমে যাবে। কর্মীদের আর অফিসে ঘুরতে বা নিয়োগকর্তার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, ফলে মানসিক চাপও কমবে।

ইপিএফও সংস্কার ২০২৫:

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইপিএফও একাধিক বড় সংস্কার চালু করে। আগে পিএফ তোলার জন্য ১৩টি আলাদা ক্যাটাগরি ছিল—চিকিৎসা, বিয়ে, বাড়ি তৈরি, পড়াশোনা ইত্যাদি। এখন এই সব ক্যাটাগরি একত্রিত করে একটি সহজ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যাতে সদস্যরা সহজেই নিজেদের অধিকার বুঝতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য ‘জিরো রিজেকশন’ নীতি বাস্তবায়ন করা।

কর্মীদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে?

ধরা যাক, মাঝরাতে হঠাৎ হাসপাতালে বড় অঙ্কের টাকা দরকার হলো। বর্তমানে সেই টাকা পেতে ৩ থেকে ৭ দিন সময় লাগে। কিন্তু ২০২৬ সালের পর কর্মীরা সরাসরি পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে হাসপাতালের কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন। এর ফলে ইপিএফ শুধু অবসরকালীন সঞ্চয় নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনে ভরসাযোগ্য আর্থিক সুরক্ষা হিসেবেও কাজ করবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন