পেঁয়াজের (Onion) দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেঁয়াজের (Onion) উপর আরোপিত ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। রাজস্ব বিভাগ এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা গ্রাহক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর প্রকাশিত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রাহক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য পেঁয়াজের (Onion) সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রাখার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের আরেকটি উদাহরণ।” এই রপ্তানি শুল্ক গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ছিল। তবে বিভিন্ন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, চলতি অর্থবছরে ১৮ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের মোট রপ্তানি ১১.৭ লক্ষ টনে পৌঁছেছে।
মাসিক রপ্তানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যেখানে রপ্তানি ছিল ৭২,০০০ টন, সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৫,০০০ টনে। এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও, প্রধান পেঁয়াজ (Onion) উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে নতুন ফসলের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও এবং পিম্পলগাঁও- এশিয়ার বৃহত্তম পাইকারি বাজারগুলিতে- গত ২১ মার্চ পেঁয়াজের দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি কুইন্টাল ১,৩৩০ টাকা এবং ১,৩২৫ টাকা। গ্রাহক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক মাসে সারা ভারতের গড় মূল্য ৩৯ শতাংশ কমেছে, যখন খুচরা বাজারে দাম ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই দাম কমার পিছনে রবি মরশুমে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমান অনুযায়ী, এ বছর রবি মরশুমে পেঁয়াজের (Onion) উৎপাদন হবে ২২.৭ মিলিয়ন টন, যা গত বছরের ১৯.২ মিলিয়ন টনের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। ভারতের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ৭০-৭৫ শতাংশই আসে রবি মরশুম থেকে। এই ফসল বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যতক্ষণ না খরিফ মরশুমের ফসল অক্টোবর-নভেম্বরে বাজারে আসে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, “এই মরশুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আগামী মাসগুলিতে বাজারে দাম আরও কমতে পারে।” তবে, দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার এর আগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩ মে পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যা এখন প্রত্যাহার করা হল।
কৃষকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে। কারণ, দাম কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। অন্যদিকে, ভোক্তারা উদ্বিগ্ন যে রপ্তানি শুল্ক তুলে নেওয়ার ফলে দেশের বাইরে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লে দেশীয় বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে। তবে সরকারের দাবি, উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলাফল অনেকটাই বাজারের চাহিদা এবং সরবরাহের উপর নির্ভর করবে। যদি রপ্তানি বেড়ে যায় এবং দেশীয় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে পেঁয়াজের দাম আবারও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদনের পরিমাণ এবং বাজারে নতুন ফসলের আগমন এই আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য পেঁয়াজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। তাই এর দামের ওঠানামা সরাসরি রান্নাঘরের বাজেটে প্রভাব ফেলে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৃষক এবং ভোক্তা- উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত, আগামী কয়েক মাসে পেঁয়াজের বাজার কী দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা দেশ।