অবসর জীবনের ভরসা NPS! জানুন কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে

NPS withdrawal and investment

ভারতে অবসরকালীন সঞ্চয় ও পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়লেও বাস্তব চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এর আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে এই স্কিমে প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ গ্রাহক রয়েছেন এবং এর অ্যাসেটস আন্ডার ম্যানেজমেন্ট (AUM) ১৬ লক্ষ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে। তবুও, ভারতের মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই অংশগ্রহণ ২ শতাংশেরও কম। এই ব্যবধান কমাতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) সম্প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।

কম খরচে বিনিয়োগ, আকর্ষণীয় রিটার্ন:

NPS-এর অন্যতম বড় সুবিধা হল এর কম খরচের কাঠামো। এটি দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী অবসরকালীন বিনিয়োগ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। টিয়ার-১ ইক্যুইটি অপশনে বার্ষিক এক্সপেন্স রেশিও প্রায় ১০ বেসিস পয়েন্ট, যা অন্য যে কোনও বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় অনেক কম। মাত্র ১,০০০ টাকা বার্ষিক বিনিয়োগ করেই এই স্কিমে অংশগ্রহণ করা যায়। রিটার্নের দিক থেকেও NPS যথেষ্ট শক্তিশালী। গত তিন বছরে টিয়ার-১ ইক্যুইটির ১০টি অ্যাসেট ম্যানেজার বার্ষিক ১২.৫ থেকে ১৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে, অর্থাৎ ১০ বছরে এই রিটার্ন ১২.৫ থেকে ১৪.৫ শতাংশের মধ্যে থেকেছে, যা সম্পদ গঠনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

   

তারল্য সংক্রান্ত নিয়মে বড় ছাড়:

আগে NPS-এর প্রধান দুর্বলতা ছিল কঠোর টাকা তোলার নিয়ম। অবসরের সময় মোট জমার অন্তত ৪০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে অ্যানুইটিতে বিনিয়োগ করতে হত, যার পেনশন অংশটি করযোগ্য ছিল। ফলে অনেকেই এই স্কিমে টাকা আটকে যাওয়ার ভয়ে বিনিয়োগে অনীহা দেখাতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে।

এখন টাকা তোলা আরও সহজ:

নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের আর ৬০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ১৫ বছর বিনিয়োগ সম্পন্ন হলেই স্কিম থেকে বের হওয়া সম্ভব। ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি। যদি মোট কর্পাস ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়, তাহলে সম্পূর্ণ টাকা এককালীন তোলা যাবে, অ্যানুইটি কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আগে এই সীমা ছিল মাত্র ২ লক্ষ টাকা। এছাড়া, যাদের কর্পাস ১২ লক্ষ টাকার বেশি, তারা এখন ৮০ শতাংশ টাকা এককালীন তুলতে পারবেন এবং মাত্র ২০ শতাংশ অ্যানুইটিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

বিনিয়োগের বয়সসীমা বাড়ল:

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল বিনিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮৫ বছর করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত ১০ বছর কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা পাবেন। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগই অবসর পরিকল্পনার মূল চাবিকাঠি, আর এই পরিবর্তন NPS-কে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন