Master Financial Planning: নতুন অর্থবছর ২০২৫-২৬ শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল থেকে, যা আপনার আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসছে। সারা বছর ধরে আপনার অর্থকে সঠিক পথে রাখতে এখানে একটি ধাপে ধাপে পরিকল্পনা দেওয়া হল। এই গাইড অনুসরণ করে আপনি আর্থিক সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।
আর্থিক পরিকল্পনা ২০২৫-২৬: মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা
এপ্রিল
নতুন অর্থবছরের শুরুতে প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন, আপনি নতুন কর ব্যবস্থা (ট্যাক্স রিজিম) না পুরনো কর ব্যবস্থা বেছে নেবেন। নতুন কর ব্যবস্থায় এখন ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর ছাড় পাওয়া যাবে। যদি আপনি টিডিএস (ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স) থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হন, তবে ফর্ম ১৫জি বা ১৫এইচ জমা দিন। এই মাসে ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) কার্যকর হবে, যা সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুবিধাজনক। আপনার ডিম্যাট হোল্ডিংসকে ডিজিলকারে সংরক্ষণ করুন, যাতে নিরাপত্তা ও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সোনায় বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত সময়।
মে
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আপনার আয়ের বিবরণী তৈরি করুন। প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে রাখুন, যাতে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়ানো যায়। যদি আপনি বেতনভোগী কর্মচারী হন, তবে আপনার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ফর্ম ১৬ সংগ্রহ করুন।
জুন
যদি আপনার উপর অগ্রিম কর প্রযোজ্য হয়, তবে ১৫ জুনের মধ্যে প্রথম কিস্তি পরিশোধ করুন। এটি আপনার আর্থিক পরিকল্পনাকে সুগঠিত রাখবে।
জুলাই
আপনার বার্ষিক তথ্য বিবরণী (এআইএস) পর্যালোচনা করুন এবং কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। ক্রেডিট ব্যুরো থেকে বিনামূল্যে বার্ষিক ক্রেডিট রিপোর্ট নিন এবং আপনার ক্রেডিট স্কোর যাচাই করুন। বেতনভোগী কর্মচারী এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। তাই এর আগেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
আগস্ট
আসন্ন উৎসবের মরশুমের জন্য আগে থেকে আর্থিক পরিকল্পনা শুরু করুন, যাতে অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। এই সময়ে বাজেটের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সেপ্টেম্বর
১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধ করুন। আপনার এনপিএস (ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম) সম্পদ বরাদ্দ পর্যালোচনা করে পুনর্বিন্যাস করুন, যাতে বিনিয়োগ সর্বোত্তম ফল দেয়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে পোর্টফোলিওর পারফরম্যান্স পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করুন।
অক্টোবর
৮০ বছরের বেশি বয়সী সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের পেনশন অব্যাহত রাখতে অস্তিত্বের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। ধনতেরাসে সোনায় বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করুন, যা সম্পদ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত।
নভেম্বর
সরকারি কর্মচারীদের পেনশন অব্যাহত রাখতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অস্তিত্বের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। এই সময়সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
ডিসেম্বর
বছরের শেষে আপনার বার্ষিক খরচ পর্যালোচনা করুন এবং পরবর্তী বছরের জন্য বাজেট সামঞ্জস্য করুন। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধ করুন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বা বিলম্বিত কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর।
জানুয়ারি
গত বছরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জন্য নতুন এবং বাস্তবসম্মত আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনার বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পোর্টফোলিওর একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করুন।
ফেব্রুয়ারি
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট বিশ্লেষণ করুন এবং এটি আপনার অর্থের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা বোঝার চেষ্টা করুন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে দম্পতি হিসেবে আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করুন।
মার্চ
প্রয়োজন হলে ১৫ মার্চের মধ্যে চতুর্থ অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধ করুন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কর সাশ্রয়ী বিনিয়োগের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ। এই সময়ের মধ্যে সমস্ত বিনিয়োগ সম্পন্ন করুন।
আর্থিক সাফল্যের পথে এগিয়ে চলুন
করের সময়সীমা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে আপনি আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারেন এবং শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে পারেন। সঠিক কর ব্যবস্থা বাছাই থেকে শুরু করে কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বাজেট পর্যালোচনা—সব ক্ষেত্রে সচেতন থাকা আপনাকে এই অর্থবছরে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে সাহায্য করবে। আজই পরিকল্পনা শুরু করুন এবং আর্থিক সাফল্যের পথে নিজেকে প্রস্তুত করুন।
কেন এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করলে আপনি আর্থিক বিষয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, এপ্রিলে কর ব্যবস্থা বাছাই এবং ফর্ম ১৫জি/১৫এইচ জমা দেওয়া আপনার টিডিএস-সংক্রান্ত ঝামেলা কমাবে। জুলাইয়ে সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানা এড়ানো যাবে। একইভাবে, সেপ্টেম্বরে এনপিএস পুনর্বিন্যাস এবং মার্চে কর সাশ্রয়ী বিনিয়োগ আপনার সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিশেষ সুযোগসমূহ
অক্ষয় তৃতীয়া এবং ধনতেরাসের মতো দিনগুলো সোনায় বিনিয়োগের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে শুভ। এই সময়ে বিনিয়োগ আপনার সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে দম্পতি হিসেবে বিনিয়োগের পরিকল্পনা আপনার পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আর্থিক সাফল্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসভিত্তিক গাইড অনুসরণ করে আপনি করের দায়িত্ব পালন, বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ এবং আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন এবং একটি সুনিশ্চিত আর্থিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যান।