ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫-৭% অর্জন করতে হলে, দেশটির ট্যাক্স বয়েন্সি ১.২ থেকে ১.৫ এর মধ্যে থাকতে হবে বলে এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। EY-এর বুধবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারের ট্যাক্স সংগ্রহ বৃদ্ধির জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। EY জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে সরকারের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে পৌঁছানোর পরও তা ৩১ অর্থবছরে ১৪ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হবে।
EY রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্যাক্স বয়েন্সি বাড়ানোর জন্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের কৌশল উন্নত করা এবং কাঠামোগত সংস্কারের পথে চলতে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয়। EY-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, FY26 বাজেট একটি কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য একসাথে পূরণ করতে সহায়ক হবে।
EY ইন্ডিয়া-র প্রধান নীতি উপদেষ্টা, ডি. কে. শ্রীবাস্তব বলেছেন, “যতটা দ্রুত ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রসারণ ও সামাজিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা দরকার, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হল ট্যাক্স বয়েন্সি নিশ্চিত করা। এটি ১.২ থেকে ১.৫ এর মধ্যে রাখতে পারলে, ভারত তার ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।”
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন বছরে ভারতের মোট ট্যাক্স রাজস্ব বয়েন্সি ধীরে ধীরে কমেছে, যা FY24 এ ১.৪ থেকে FY25 RE তে ১.১৫ এ নেমে এসেছে এবং FY26 BE এর জন্য এটি ১.০৭ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। EY এর মতে, এই অবস্থায় ট্যাক্স বয়েন্সি ১.২ থেকে ১.৫ এর মধ্যে রাখতে পারলে, সরকার ৬.৫ থেকে ৭.০ শতাংশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
ভারতের অর্থনীতি আগামী অর্থবছরে ৬.৩-৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য রেখেছে এবং বর্তমান অর্থবছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
EY রিপোর্ট আরও জানিয়েছে, গত দশ বছরে ভারত সরকার তার অর্থনৈতিক ঘাটতি জিডিপি অনুপাত কমাতে সক্ষম হয়েছে। FY15 এ ৪.১ শতাংশ থেকে এটি FY19 এ ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যে ৪.৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে, রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, সরকারকে তার অর্থনৈতিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং এটি FRBM নির্দেশিকা অনুযায়ী ৩ শতাংশে নামাতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত তার ট্যাক্স সংগ্রহ পদ্ধতি আরও উন্নত করা এবং তার কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। আগামী কয়েক বছরে, দেশের জন্য উন্নত রাজস্ব সংগ্রহ কৌশল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
EY রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ৬.৫-৭% বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, সরকারের আরো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে রাজস্ব সংগ্রহ শক্তিশালী হয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে।
ভারতের অর্থনীতির জন্য বর্তমানে একদিকে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো ও ট্যাক্স বয়েন্সি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। EY-র রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।