
বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য চাকরির অনিশ্চয়তা নতুন কিছু নয় (EPFO)। অর্থনৈতিক মন্দা, ছাঁটাই, অথবা আরও ভালো ক্যারিয়ারের সুযোগের সন্ধানের কারণেই হোক না কেন, চাকরি পরিবর্তন বা হারানো এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন কোনও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েন বা দীর্ঘ বিরতি নেন, তখন তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল তাদের সঞ্চয়। এই সঞ্চয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)। প্রায়শই মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগে যে, যদি কেউ চাকরি হারিয়ে ফেলে এবং পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়া বন্ধ হয়, তাহলে কি পুরনো জমা হওয়া টাকার উপর সুদও বন্ধ হয়ে যাবে?
পিএফ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি হল যে আপনি যদি চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে কোনও নতুন অবদান রাখা হয় না। এমন পরিস্থিতিতে, সরকার অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার উপর সুদ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই ভয় অনেক লোককে আতঙ্কিত করে এবং তাদের সম্পূর্ণ পিএফ ব্যালেন্স তুলে নেয়, যা তাদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রযুক্তির এই যুগে, যেখানে চাকরি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, নতুন চাকরি খুঁজে পেতে প্রায়শই বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। এই কঠিন সময়ে, পিএফের টাকা আশার আলো দেখায়। কিন্তু তিন বছর পর কি সত্যিই সুদ বন্ধ হয়ে যায়? উত্তর হল একেবারেই না।
তিন বছর পর কি সত্যিই সুদ বন্ধ হয়ে যায়?
আসলে, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরেও আপনার পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উপার্জন অব্যাহত থাকে। সমাজে প্রচলিত এই মিথ যে “৩ বছর ধরে লেনদেন না হলে সুদ বন্ধ হয়ে যাবে” আসলে পুরনো নিয়ম এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ফল। এই নিয়মটি তাদের জন্য ছিল যারা অবসর নিয়েছেন, সেইসব যুবক বা কর্মচারীদের জন্য নয় যারা মাঝপথে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
এমনকি যদি আপনি চাকরি হারান এবং বেকার থাকেন অথবা পরবর্তী ৪-৫ বছর কোনও কাজ না করেন, তবুও আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা বাড়তে থাকবে। আপনার ৫৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত EPFO আপনার জমাকৃত অর্থের উপর সুদ যোগ করতে থাকবে।
২০১৬ সালের নিয়ম যা পুরো চিত্র বদলে দিয়েছিল
২০১৬ সালের আগে, নিয়মগুলিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, যার ফলে “৩-বছর” ধারণাটি তৈরি হয়েছিল। তবে, সরকার ২০১৬ সালে ইপিএফ নিয়মে একটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনী এনেছে। এই পরিবর্তন পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মী ৫৮ বছর বয়সের আগে চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে তার অ্যাকাউন্ট ‘নিষ্ক্রিয়’ বলে বিবেচিত হবে না। বছরের পর বছর ধরে যদি সেই অ্যাকাউন্টে এক পয়সাও জমা না থাকে, তবুও সরকার বার্ষিক ঘোষিত সুদের হার অনুসারে এর উপর সুদ জমা করতে থাকবে।
“নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট” নিয়ম কখন প্রযোজ্য হবে তা কর্মীদের বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিএফ অ্যাকাউন্টের সুদের অবসান সরাসরি আপনার অবসর বয়সের সাথে সম্পর্কিত। যদি আপনার বয়স ৫৮ বছর হয় এবং আপনি অবসর গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে যদি আপনি ৩ বছর ধরে টাকা দাবি না করেন, তাহলে এর উপর সুদ বন্ধ হয়ে যাবে।










