DA Arrears Payment: কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং মহার্ঘ স্বস্তি (ডিআর)-এ ২ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এই বৃদ্ধি ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১ কোটিরও বেশি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী উপকৃত হবেন।
কর্মচারীরা তাদের এপ্রিল ২০২৫-এর বেতনের সঙ্গে বর্ধিত ডিএ পাবেন। এছাড়াও, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ ২০২৫-এর জন্য বকেয়া পরিমাণও এপ্রিল মাসে এককালীন প্রদান করা হবে। এর অর্থ হলো, কর্মচারীরা বর্ধিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে পাবেন।
বেতন ও পেনশনে কতটা বৃদ্ধি?
যে সমস্ত কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, তাঁদের জন্য মাসিক বৃদ্ধি হবে ৩৬০ টাকা। ফলে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া হিসেবে তারা ১,০৮০ টাকা পাবেন। অন্যদিকে, যে পেনশনভোগীদের মূল পেনশন ৯,০০০ টাকা, তাঁদের মাসিক বৃদ্ধি হবে ১৮০ টাকা, এবং তিন মাসের বকেয়া হিসেবে তাঁরা ৫৪০ টাকা পাবেন।
এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৮.৬ লক্ষ (৪৮,৬০,০০০) কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৬.৫ লক্ষ (৬৬,৫০,০০০) পেনশনভোগীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকারের অনুমান অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির জন্য বার্ষিক আর্থিক বোঝা প্রায় ৬,৬১৪.০৪ কোটি টাকা হবে। এই অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হবে, যা কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।
পরবর্তী ডিএ সংশোধন কবে?
পরবর্তী ডিএ সংশোধন, যা জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য প্রযোজ্য হবে, সেটি অক্টোবর বা নভেম্বর ২০২৫-এ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত হয়ে শূন্য থেকে শুরু হবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তিত হবে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে পারে।
কীভাবে বৃদ্ধি যাচাই করবেন?
- কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তাদের বর্ধিত ডিএ এবং বকেয়া যাচাই করতে পারেন নিম্নলিখিত উপায়ে:
- বেতন স্লিপ পরীক্ষা: এপ্রিল ২০২৫-এর বেতন স্লিপে ডিএ আলাদাভাবে উল্লেখ থাকবে। এটি পরীক্ষা করে বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যাবে।
- ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট: এপ্রিলের বেতন বা পেনশনের সঙ্গে পূর্ববর্তী মাসের তুলনা করে বৃদ্ধি ও বকেয়ার পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে।
- কর্মচারী পোর্টাল: অনেক সরকারি বিভাগ অনলাইনে বেতনের বিবরণ প্রদান করে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগইন করে বিস্তারিত জানা যাবে।
- এইচআর/হিসাব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ: কোনো সন্দেহ থাকলে, এইচআর বা হিসাব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্পষ্টীকরণ চাওয়া যেতে পারে।
কর্মচারীদের জন্য স্বস্তি
এই ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি কর্মচারীদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে। মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বেতন ও পেনশনে এই বৃদ্ধি তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কর্মচারী যিনি ১৮,০০০ টাকা মূল বেতন পান, তিনি এখন প্রতি মাসে ৯,৯০০ টাকা ডিএ পাবেন (৫৫% হারে), যা আগে ছিল ৯,৫৪০ টাকা (৫৩% হারে)। তিন মাসের বকেয়া ১,০৮০ টাকা এপ্রিলে তাঁর বেতনের সঙ্গে যোগ হবে। একইভাবে, ৯,০০০ টাকা পেনশন প্রাপক একজন পেনশনভোগী এখন মাসে ৪,৯৫০ টাকা ডিআর পাবেন, এবং তাঁর বকেয়া হবে ৫৪০ টাকা।
এই বৃদ্ধি গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও, এটি কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। গত জুলাই ২০২৪-এ ডিএ ৫০% থেকে ৫৩%-এ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ৩ শতাংশ বৃদ্ধি ছিল। এবারের ২ শতাংশ বৃদ্ধি অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই)-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রভাব
এই ডিএ বৃদ্ধি অষ্টম বেতন কমিশন ঘোষণার পর প্রথম। সরকার ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫-এ অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করেছে, যার সুপারিশ ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত হয়ে শূন্য থেকে শুরু হবে। এর ফলে কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে। তবে, তার আগে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫-এর জন্য আরেকটি ডিএ বৃদ্ধি ঘোষণা হবে, যা সম্ভবত সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে শেষ হবে।
কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া
কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এই বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ এর পরিমাণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন কর্মচারী বলেন, “গত কয়েক বছরে আমরা ৩-৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছি। এবার ২ শতাংশ একটু কম মনে হচ্ছে, তবে বকেয়া সহ বেতন পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি হবে।” আরেকজন পেনশনভোগী বলেন, “মূল্যস্ফীতির তুলনায় এই বৃদ্ধি সামান্য, তবে এটি আমাদের দৈনন্দিন খরচে সাহায্য করবে।”
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছিলাম অন্তত ৩ শতাংশ বৃদ্ধি হবে। তবে, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় আমরা আছি, যা আমাদের বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনবে।”
অর্থনীতিতে প্রভাব
এই ডিএ বৃদ্ধি শুধু কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দেবে না, বরং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বকেয়া ও বর্ধিত বেতনের অর্থ বাজারে প্রবাহিত হলে ভোক্তা চাহিদা বাড়বে, যা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারি কর্মচারীদের সমর্থন করে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং তিন মাসের বকেয়া প্রদান কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি স্বাগত পদক্ষেপ। এপ্রিল ২০২৫-এ বেতন ও পেনশনে এই পরিবর্তন প্রতিফলিত হবে, যা তাদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়াবে। অষ্টম বেতন কমিশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়, এই বৃদ্ধি একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে। কর্মচারীরা এখন তাদের বেতন স্লিপ ও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন। ভবিষ্যতের বেতন সংশোধনের জন্য সবার চোখ এখন অষ্টম বেতন কমিশনের দিকে।