চমকে দিল চণ্ডিগড়! গাড়ির নম্বর প্লেট নিলামেই ১২০০ কোটি আয়

গাড়ির নম্বর প্লেট সাধারণত পরিচয় ও নথিভুক্তির মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু সেই নম্বর প্লেটই (fancy number plate) যে রাজকোষে হাজার হাজার কোটি টাকা আয়ের বড়…

chandigarh-car-number-plate-auction-revenue-1200-crore

গাড়ির নম্বর প্লেট সাধারণত পরিচয় ও নথিভুক্তির মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু সেই নম্বর প্লেটই (fancy number plate) যে রাজকোষে হাজার হাজার কোটি টাকা আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। অথচ বাস্তবে সেটাই ঘটেছে চণ্ডিগড়ে (Chandigarh)। সরকারি নথি ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে চণ্ডিগড়ের রেজিস্টারিং অথরিটি (Registering Authority) শুধুমাত্র ভিআইপি ও বিশেষ নম্বর প্লেট নিলাম করে আয় করেছে ১,২০০ কোটিরও বেশি টাকা। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisements

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে চণ্ডিগড়ে বিশেষ বা প্রিমিয়াম নম্বর প্লেটের বিক্রি ছিল ৩,৩০৮টি। এরপর প্রতি বছরই এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা পৌঁছয় ৯,৫৯৯-এ। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের মধ্যেই বিশেষ নম্বর প্লেটের চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। কোভিড পরবর্তী সময়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও স্ট্যাটাস সিম্বলের প্রতি মানুষের আগ্রহ যে কতটা বেড়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

এই বিপুল আয়ের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে তথাকথিত “ভিআইপি নম্বর” বা “ফ্যান্সি নম্বর”। ০০০১, ০০০৭, ০০০৯, ৭৮৬, ১১১১ কিংবা নিজের নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে তৈরি নম্বর—এই ধরনের প্লেটের জন্য ধনী ও প্রভাবশালী মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে CH01-DA-0001 নম্বর প্লেটটি নিলামে বিক্রি হয় ৩৬.৪৩ লক্ষ টাকায়, যা প্রশাসনিক মহলেও নজির সৃষ্টি করে। একটি মাত্র নম্বর প্লেটের জন্য এত টাকা খরচ করতে মানুষ যে প্রস্তুত, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অনলাইন ভিত্তিক। কেন্দ্রের পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনে থাকা পরিবহন (Parivahan) পোর্টাল মারফত এই নিলাম হয়। আগ্রহী ক্রেতারা অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্দিষ্ট নম্বরের জন্য দর হাঁকান। ফলে দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠার সুযোগ কম থাকে। এক আধিকারিকের কথায়, “এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষও অংশ নিতে পারেন, আবার সরকারও বৈধভাবে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে পারছে।”

সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, চণ্ডিগড়ের মতো শহরে এই প্রবণতা আরও বেশি চোখে পড়ে। আধুনিক শহর, উচ্চ আয়ের পরিবার, বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যা বেশি—এই সব কিছুর মিলেই নম্বর প্লেট এক ধরনের স্ট্যাটাস সিম্বলে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যা সৌভাগ্য নিয়ে আসে। আবার কারও কাছে এটি সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম। ফলে নম্বর প্লেটের নিলাম কার্যত ভারতের বিলাসবহুল অর্থনীতির (Luxury Economy) এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অন্তত ৬৮টির বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে। কেউ কেউ অবাক হয়ে লিখেছেন, “নম্বর প্লেটেই যদি এত টাকা ওঠে, তাহলে কর বাড়ানোর দরকারই নেই।” আবার কেউ মজার ছলে মন্তব্য করেছেন, “গাড়ির দাম কম, নম্বর প্লেটই আসল বিলাস!” এই প্রতিক্রিয়াগুলি থেকেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি যেমন বিস্ময়ের, তেমনই কৌতুকেরও।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই ধরনের নিলাম সরকারের জন্য একটি ‘নন-ট্যাক্স রেভিনিউ’ বা কর ছাড়াই আয়ের কার্যকর উৎস। সাধারণ নাগরিকদের উপর বাড়তি করের চাপ না বাড়িয়ে, ধনী শ্রেণির ঐচ্ছিক ব্যয়ের মাধ্যমেই রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অন্য শহর ও রাজ্যও যদি চণ্ডিগড়ের মডেল অনুসরণ করে, তাহলে গাড়ির নম্বর প্লেটই হয়ে উঠতে পারে সরকারের আয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

সব মিলিয়ে বলা যায়, চণ্ডিগড়ের গাড়ির নম্বর প্লেট নিলাম শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং আধুনিক ভারতের ভোগবাদী মানসিকতা, স্ট্যাটাস-চেতনা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক চমকপ্রদ প্রতিচ্ছবি। ১,২০০ কোটির এই অঙ্ক নিঃসন্দেহে দেশের পরিবহণ ও রাজস্ব ব্যবস্থায় নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

Advertisements