ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনার ভোক্তা (Gold Price) হিসেবে স্থান করে নিয়েছে, শুধুমাত্র চিনের পরেই এর অবস্থান। দেশের সোনার চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়, বাকি অংশ আসে দেশীয়ভাবে পুনর্ব্যবহৃত সোনা থেকে। ভারতে সোনার দাম (Gold Price) নির্ধারণে বেশ কয়েকটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ববাজারের প্রবণতা এখানে একটি প্রধান নিয়ামক, কারণ সোনার মূল্য (Gold Price) সাধারণত মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়। এছাড়াও, আমদানি শুল্ক এবং কর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দামের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। সোনাকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা হিসেবে গণ্য করা হলেও, বন্ডের ফলন এবং মার্কিন ডলারের মূল্যের পরিবর্তনও এর দামকে প্রভাবিত করে।
ভারতের বিভিন্ন শহরে ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট (৯৯৯ সোনা নামে পরিচিত) সোনার দাম (Gold Price) ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজকের হিসেবে, ২১ মার্চ ২০২৫, দেশের ১০টি বড় শহরে সোনার দাম (Gold Price):
দিল্লি: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৮৫ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০৩৭ টাকা।
চেন্নাই: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
বেঙ্গালুরু: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৫১ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
মুম্বই: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
পুনে: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
কলকাতা: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
আমেদাবাদ: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭৫ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২৭ টাকা।
হায়দ্রাবাদ: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২২ টাকা।
ইন্দোর: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৭৫ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০২৭ টাকা।
লখনউ: ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৮,২৮৫ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯,০৩৭ টাকা।
ভারতে ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম (Gold Price) স্থিরভাবে বাড়ছে, যা এটিকে একটি স্থিতিশীল ও ভরসাযোগ্য সম্পদ হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দামের ওঠানামা এবং ভারত সরকারের আমদানি শুল্ক নীতি এই দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সোনার প্রতি ঝুঁকছেন, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে মূল্য ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে। সোনার স্থায়িত্ব এবং নির্ভরযোগ্যতা এটিকে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি পছন্দের বিকল্প করে তুলেছে।
ভারতে সোনা শুধুমাত্র একটি বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিয়ে-শাদি, উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সোনার গহনার চাহিদা বছরের পর বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে সোনাকে কেবল গহনা হিসেবে নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্কগুলো সোনার মাধ্যমে ঋণ প্রদানের সুবিধা চালু করেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামের (Gold Price) ওপর ভারতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। চিনের পর ভারতই সোনার সবচেয়ে বড় ক্রেতা, এবং এই দুই দেশের চাহিদা বিশ্ববাজারে সোনার দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাস পেলে সাধারণত সোনার দাম বাড়ে, যা ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর দেশের জন্য দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও, ভারত সরকারের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং করের হার সোনার অভ্যন্তরীণ দামকে আরও চড়া করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোনার দামের (Gold Price) এই ঊর্ধ্বগতি আগামী কয়েক মাস ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, বিনিয়োগের আগে বাজারের প্রবণতা এবং নিজের আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করা জরুরি। সোনা একটি নিরাপদ সম্পদ হলেও, এর দামের ওঠানামা বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল। অতএব, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সোনা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, তবে স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
ভারতে সোনার দামের (Gold Price) ক্রমাগত বৃদ্ধি এটিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর স্থায়িত্ব, নির্ভরযোগ্যতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এটিকে এক অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে। বিশ্ববাজারের প্রভাব এবং দেশীয় নীতির কারণে সোনার দামে কিছু ওঠানামা দেখা গেলেও, এটি ভারতীয় অর্থনীতি ও সমাজে নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে, যদি তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।