বিশ্ব বাজারে ভারতীয় গাড়ির দাপট! বিপুল হারে বাড়ল রফতানি

বিশ্ব অটোমোবাইল (Indian automobile) বাজারে ভারতের অবস্থান যে ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM)-এর প্রকাশিত…

indian-automobile-exports-rise-24-percent-global-market-siam-2025

বিশ্ব অটোমোবাইল (Indian automobile) বাজারে ভারতের অবস্থান যে ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে দুই চাকা, তিন চাকা এবং বাণিজ্যিক যান—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নজরে এসেছে। বিশ্ব বাজারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ গাড়ির চাহিদা যে আগের তুলনায় অনেক বেশি, এই পরিসংখ্যান তা স্পষ্ট করে দিল।

Advertisements

SIAM-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মোট অটোমোবাইল রফতানি পৌঁছেছে ৬৩,২৫,২১১ ইউনিটে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০,৯৮,৪৭৪ ইউনিট। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানিতে বৃদ্ধি হয়েছে ২৪.১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতীয় গাড়ির প্রতি আস্থা বজায় থাকাই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

   

যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে প্যাসেঞ্জার ভেহিকল রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৬৩,২৩৩ ইউনিটে, যা ২০২৪ সালের ৭,৪৩,৯৭৯ ইউনিটের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি-র চাহিদা বিশেষভাবে বেড়েছে। এই শ্রেণিতে রফতানি ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,২৭,২১৯ ইউনিটে পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৩,২৩,৬২৪ ইউনিট। অন্যদিকে, প্যাসেঞ্জার কার বা সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির রফতানি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,২৫,৩৯৬ ইউনিট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।

SIAM জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে ভারতীয় গাড়ির সাশ্রয়ী মূল্য, জ্বালানি দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

রফতানির নিরিখে মারুতি সুজুকি ফের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি প্রায় ৩.৯৫ লক্ষ ইউনিট গাড়ি রফতানি করেছে, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩.২৬ লক্ষ ইউনিট। মারুতি সুজুকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ২০২৬ অর্থবর্ষে ৪ লক্ষ ইউনিট রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। সংস্থার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) রাহুল ভার্তি বলেন, “বর্তমানে ভারতের মোট প্যাসেঞ্জার ভেহিকল রফতানির প্রায় ৪৬ শতাংশই মারুতি সুজুকির অবদান। বিশ্ব বাণিজ্যে আরও বড় অংশীদার হওয়ার সব রকম সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে।”

দুই চাকা গাড়ির ক্ষেত্রেও রফতানিতে বড়সড় উত্থান দেখা গেছে। ২০২৫ সালে মোট দুই চাকা গাড়ি রফতানি হয়েছে ৪৯,৩৯,৭০৬ ইউনিট, যা ২০২৪ সালের ৩৯,৭৭,১৬২ ইউনিটের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের রফতানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ, পৌঁছেছে ৪৩,০১,৯২৭ ইউনিটে। স্কুটার রফতানিও পিছিয়ে নেই—এই বিভাগে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,২০,২৪১ ইউনিটে।

তিন চাকা গাড়ির রফতানি বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ২০২৫ সালে এই বিভাগে রফতানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ, মোট ৪,২৫,৫২৭ ইউনিট, যেখানে আগের বছর ছিল ২,৯৮,২৩৫ ইউনিট। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ৯১,৭৫৯ ইউনিটে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্ব বাজারে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্প এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ—এই সব কিছুর সমন্বয়েই ভারতের গাড়ি শিল্প আজ বৈশ্বিক মঞ্চে দাপটের সঙ্গে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements