
ভারতের নাগরিকদের জন্য আধার কার্ড (Aadhaar update) আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। সিম কার্ড সংগ্রহ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, কেওয়াইসি সম্পন্ন করা, সরকারি ভর্তুকি ও নানা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI) আধার কার্ড ইস্যু করে, যেখানে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই তথ্য আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।
কেন বায়োমেট্রিক আপডেট করা জরুরি?
UIDAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান নেওয়া হয় না। শিশুর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলে প্রথমবার বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে ১৫ বছর বয়সে এসে আবার নতুন করে বায়োমেট্রিক আপডেট করা বাধ্যতামূলক। কারণ এই বয়সে শিশুর শারীরিক গঠন ও বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়। তাই আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস এবং ছবি নতুন করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপডেট না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
UIDAI নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে এই বায়োমেট্রিক আপডেট সম্পন্ন করা আবশ্যক। যদি নির্দিষ্ট সময়ে এই কাজ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আধার-সংক্রান্ত পরিষেবা নিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতে পারে। কেওয়াইসি যাচাই, সরকারি পরিষেবা বা বিভিন্ন অনলাইন যাচাইকরণে আধার অকার্যকর হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।
বায়োমেট্রিক আপডেট এখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে:
আগে শিশুদের আধার বায়োমেট্রিক আপডেটের জন্য ১২৫ টাকা ফি দিতে হত। তবে UIDAI সাধারণ মানুষের স্বার্থে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১৫ বছর পূর্ণ করা শিশুদের জন্য বায়োমেট্রিক, আইরিস এবং ছবি আপডেট একেবারেই বিনামূল্যে করা যাবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপডেট করালে কোনও ধরনের চার্জ দিতে হবে না।
কীভাবে করাবেন আধার বায়োমেট্রিক আপডেট?
১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি সন্তানের আধার আপডেট করাতে হলে নিকটবর্তী আধার সেন্টারে যেতে হবে। তার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ভালো। আধার সেন্টারে পৌঁছে প্রথমে টোকেন নিয়ে আধার যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট কাউন্টারে শিশুর ছবি তোলা হবে এবং আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান আপডেট করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কোনও ঝামেলা এড়াতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই বায়োমেট্রিক আপডেট করানো উচিত। বিনামূল্যে এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকায় অভিভাবকদের এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।










