
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে এই কমিশন কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। সংসদে সরকারের তরফে দেওয়া সাম্প্রতিক উত্তরে স্পষ্ট হয়েছে যে কমিশনের কাজ এগোচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
সংসদে কী জানাল সরকার?
অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে জানান, অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করার তারিখ সরকার উপযুক্ত সময়ে নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পরেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, সুপারিশ গ্রহণ করা হলে তার জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হবে। যদিও এখনই কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
২০২৫ সালে শুরু হয়েছে কমিশনের কাজ:
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার অষ্টম বেতন কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স অনুমোদন করে। কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং পেনশন পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
বেতন কমিশনের পরিচিত প্যাটার্ন:
Karma Management Global Consulting Solutions Pvt. Ltd.-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রতীক বৈদ্য বলেন, বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ধারা লক্ষ্য করা যায়। তাঁর মতে, নতুন বেতন কমিশনের ইঙ্গিত দেয় এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—শেষ বেতন সংশোধনের পর কেটে যাওয়া সময়, ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (DA)-এর হার এবং সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি।
ডিএ বাড়ায় জোরালো দাবি:
প্রতীক বৈদ্য জানান, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ বছর অন্তর সংশোধন হয়েছে—১৯৯৬, ২০০৬ ও ২০১৬ সালে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যখনই ডিএ ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তখন কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে বেতন পুনর্গঠন ও ডিএ মার্জারের দাবি আরও জোরালো হয়। বর্তমানে ডিএ বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অষ্টম বেতন কমিশনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অষ্টম বেতন কমিশন এখন বাস্তব প্রক্রিয়ায়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আর কেবল ইঙ্গিত নয়, বরং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। জানুয়ারি ২০২৫-এ মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং পরে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর লোকসভায় বিস্তারিত প্রস্তাব পাশ হয়। ওই প্রস্তাবে কমিশনের গঠন ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। কমিশন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন পর্যালোচনা করবে। ফলে অষ্টম বেতন কমিশন এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।










