
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে ৮ম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে। কর্মী সংগঠন ও ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনায় এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ন্যূনতম মজুরি (Minimum Wage) এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor)। কর্মীদের দাবি, বেতন নির্ধারণের পুরনো পদ্ধতি আর বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই নয়, তাই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।
টার্মস অফ রেফারেন্স (TOR)-এ কী বলা হয়েছে?
৮ম বেতন কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স অনুযায়ী, কমিশনকে বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ দিতে হবে। কাজের ধরণে যে পরিবর্তন এসেছে, বিভিন্ন দপ্তরের আলাদা চাহিদা এবং সরকারের বাজেট দক্ষতা—সব কিছু মাথায় রেখে এই কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি, যোগ্য ও দক্ষ কর্মী আকর্ষণ করা, কর্মদক্ষতা বাড়ানো, জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ উন্নত করাও TOR-এর অন্যতম লক্ষ্য।
ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিতর্ক কেন?
TOR-এ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নির্দিষ্ট কোনও সূত্র উল্লেখ না থাকায় কর্মী সংগঠনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বহু দশক আগের মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রার খরচ নির্ধারণ করা যায় না। তাই তারা নতুন ও আধুনিক পদ্ধতির দাবি তুলেছে।
কর্মী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি:
সম্প্রতি NC-JCM-এর স্টাফ সাইডের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ৮ম বেতন কমিশনের কাছে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি শুধু খাদ্য ও পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দরকার—
একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্যালোরি চাহিদা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
খাদ্য, পোশাক ও অন্যান্য নন-ফুড প্রয়োজন
সরকারি রেশন দোকান ও কো-অপারেটিভ স্টোরের প্রকৃত খুচরো মূল্য
উৎসব ও সামাজিক দায়িত্বের অতিরিক্ত খরচ
মোবাইল, ইন্টারনেট ও দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ
কর্মী সংগঠনগুলোর যুক্তি, আজকের দিনে প্রযুক্তি আর বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক প্রয়োজন।
৭ম বেতন কমিশনের সঙ্গে পার্থক্য:
৭ম বেতন কমিশন ১৯৫৭ সালের ১৫তম ইন্ডিয়ান লেবার কনফারেন্স (ILC)-এর মানদণ্ড অনুসরণ করেছিল, যেখানে পরিবার বলতে কর্মী, তার স্ত্রী ও ১৪ বছরের কম বয়সি দুই সন্তানকে ধরা হয়েছিল। সেই হিসাবে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ হলেও মোবাইল, ইন্টারনেটের মতো আধুনিক খরচ ধরা হয়নি। এবার ৮ম বেতন কমিশনে সেই ঘাটতি পূরণের দাবি উঠেছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে প্রত্যাশা:
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়েও কর্মীদের নজর তীক্ষ্ণ। ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনে এটি ছিল ১.৮৬, ৭ম কমিশনে বেড়ে হয় ২.৫৭, যার ফলে ন্যূনতম বেসিক বেতন দাঁড়ায় ১৮,০০০ টাকা। এখন কর্মীদের আশা, ৮ম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর আরও বাড়বে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও কর্মীদের বাস্তব চাহিদার ভারসাম্যের ওপর।










