
ঝাড়গ্রাম স্টেশনে রবিবার হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়ায় কয়লা বোঝাই একটি মালগাড়ির বগিতে আগুন (Fire in jhargram) লাগার ঘটনায়। টাটা থেকে কোলাঘাটগামী ওই মালগাড়িটি স্টেশনে ঢোকার পরই স্থানীয়দের নজরে আসে অস্বাভাবিক ধোঁয়া। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, এবং আশপাশে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সময়ই একটি নির্দিষ্ট বগি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। প্রথমে অনেকে বিষয়টি বুঝে উঠতে না পারলেও, ধোঁয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকায় সন্দেহ জোরদার হয়। এরপরই দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। স্টেশনের কর্মীরাও সতর্ক হয়ে পড়েন এবং প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত কাজ শুরু করেন। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়। কয়লা বোঝাই বগিতে আগুন লাগায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত, কারণ কয়লা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে পারে এবং তাপ ধরে রাখতে সক্ষম।
দমকল কর্মীরা জল ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি, তবে কিছু সময়ের জন্য স্টেশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
দমকল বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, ঘর্ষণের ফলেই এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ট্রেন চলার সময় চাকা এবং লাইনের মধ্যে ঘর্ষণ থেকে তাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই তাপই কোনওভাবে কয়লার বগিতে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষও ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, স্টেশনে নিয়মিতভাবে মালগাড়ির যাতায়াত হয়, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত দমকলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও, ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।








