হলদিয়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান হলদিয়ার সভা থেকে৷ বৃহস্পতিবার মোদী দাবি করেছিলেন, “বাংলায় মাছ উৎপাদনে স্বাবলম্বী নয়৷ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু বাংলা সেই সফলতা অর্জন করতে পারছে না৷”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগকে উড়িয়ে বলেন, “বাংলা এখন মাছ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী৷ আগে ইলিশ মাছের জন্য আমাদের বাংলাদেশ ও হায়দরাবাদের ওপর নির্ভর করতে হত৷ কিন্তু বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলায় প্রচুর ইলিশ উৎপাদন সম্ভব৷ চুনোপুঁটি মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন কার্ডও চালু করা হয়েছে৷”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা শুধু মাছ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হয়নি, বরং মৎস্যজীবীদের জীবন ও ব্যবসাকে নিরাপদ ও স্থায়ী করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি৷ বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে উৎপাদিত মাছ সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে৷” বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “বাংলা জিততে চক্রান্ত করছে বিজেপি৷ হলদিয়ায় গিয়ে বলছেন, বাংলায় মাছ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ দিল্লিতে মাছের দোকান বন্ধ করে দেন৷ বিহার ও উত্তরপ্রদেশে মাছ খেতে দেয় না৷ কিন্তু বাংলার মানুষ চিন্তিত হবে না৷ আমরা আসলে ৮০ শতাংশ মাছ উৎপাদন করি৷”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “একজন হকার ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছিলেন, তাঁকে পিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সুক্ষ্মভাবে অন্য ধর্মকে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এটি ভারতের ধর্ম নয় এবং বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না৷ বাংলার মানুষ নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রাখে৷”
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, রাজ্য সরকার মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ করছে৷ তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবার গবেষণা কেন্দ্রে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে৷ আগে বাংলাদেশ ও হায়দরাবাদের ওপর নির্ভর করতে হতো৷ এখন চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা নেই৷ মাছ, মাংস এবং ডিম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে৷”
মমতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল সুপ্রিমো বাংলার মানুষের কাছে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ তিনি নিশ্চিত করেছেন, বাংলার মানুষ মাছ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অন্য কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই৷




















