পাচ্ছেন না বি এড র শংসাপত্র! শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তৈরী হল জটিলতা

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন বহু চাকরিপ্রার্থী (BEd certificate)। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে বিএড (B.Ed) চূড়ান্ত শংসাপত্র নিয়ে। অভিযোগ, বহু প্রার্থী এখনও পর্যন্ত তাদের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bed-certificate-delay-slst-candidates-west-bengal

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন বহু চাকরিপ্রার্থী (BEd certificate)। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে বিএড (B.Ed) চূড়ান্ত শংসাপত্র নিয়ে। অভিযোগ, বহু প্রার্থী এখনও পর্যন্ত তাদের আসল বিএড ফাইনাল সার্টিফিকেট হাতে পাননি। আর এই কারণেই দ্বিতীয় এসএলএসটি (SLST) পরীক্ষায় নির্বাচিত বা এমপ্যানেল্ড প্রার্থীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) সহকারী শিক্ষক (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট) পদে নিয়োগের আগে নথি যাচাইয়ের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের ডেকে পাঠিয়েছে। সেই নথি যাচাইয়ের তারিখ ছিল ২ মার্চ দুপুর ১২টা, এবং স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে সল্টলেকের ডিরোজিও ভবন। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

   

আরও দেখুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জের! তেলের হাহাকার রাজ্যে, লম্বা লাইন পেট্রোল পাম্পে

এই নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, নিয়োগ পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশপত্র, পরিচয়পত্র, প্রয়োজন হলে জাতিগত বা প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মার্কশিট ও সার্টিফিকেট এবং অবশ্যই বিএড ডিগ্রির মার্কশিট ও চূড়ান্ত সনদপত্র।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে বড় সমস্যা। বহু প্রার্থীর অভিযোগ, তারা এখনও পর্যন্ত তাদের বিএডের আসল ফাইনাল সার্টিফিকেট পাননি। বিশেষ করে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির অধীনে ২০২০–২০২২, ২০২১–২০২৩ এবং ২০২২–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীরা এই সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ওই তিনটি সেশনের বিএড প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনে তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত আসল বিএড ফাইনাল সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তাদের চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আবেদনপত্রে প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইতিমধ্যেই অনেকেই দ্বিতীয় এসএলএসটি পরীক্ষায় নির্বাচিত বা এমপ্যানেল্ড হয়েছেন। ফলে নথি যাচাইয়ের সময় আসল বিএড সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেই সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, ২০২০–২০২২, ২০২১–২০২৩ এবং ২০২২–২০২৪ সেশনের বিএড ফাইনাল সার্টিফিকেট দ্রুত ইস্যু করার দাবি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যতদিন পর্যন্ত আসল সার্টিফিকেট দেওয়া না হচ্ছে, ততদিন অন্তত প্রোভিশনাল সার্টিফিকেটকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার জন্য একটি অফিসিয়াল নোটিস প্রকাশ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

তৃতীয়ত, সেই নোটিসটি যেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছেও পাঠানো হয়, যাতে প্রার্থীরা কোনো বাধা ছাড়াই নথি যাচাই সম্পূর্ণ করতে পারেন এবং নিয়োগপত্র পেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে অনেকের চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে।

শিক্ষা মহলের একাংশও মনে করছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যে নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে আবার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্যায় নতুন করে প্রার্থীদের বিপাকে পড়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমানে সমস্ত প্রার্থীর চোখ এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে। তারা আশা করছেন, দ্রুত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ এই বিষয়টি সরাসরি বহু তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google