খুনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল BDO প্রশান্ত বর্মন

কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন (Prashanta Barman)। নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bdo-prashanta-barman-supreme-court-setback

কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন (Prashanta Barman)। নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে গেল। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া আত্মসমর্পণের নির্দেশই বহাল রইল। শুক্রবারের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট ।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৮ অক্টোবর। সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা নিখোঁজ হন। পরের দিনই নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার খালধার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্বপনকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের।

   

জরুরি কাজ? শুনানিতে যাওয়ার সময় নেই? কী হবে জানাল কমিশন

মৃতের শ্যালক দেবাশিস কামিল্যা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যাতে স্পষ্ট করে বলা হয় যে প্রশান্ত বর্মন ও তাঁর সঙ্গীরা স্বপনকে অপহরণ করে নিয়ে যান।পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই একের পর এক গ্রেফতার হতে থাকে।

স্বপনের গাড়ির চালক রাজু ঢালি, ঠিকাদার তুফান থাপা, তৃণমূল নেতা সজল সরকার-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণে প্রশান্ত বর্মনের সরাসরি যোগসাজশ স্পষ্ট।

অভিযোগ, সোনার লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। স্বপন কামিল্যা নাকি প্রশান্তের কাছ থেকে চুরি যাওয়া একটি সোনার বার কিনেছিলেন, যা নিয়ে পরে বিবাদ তৈরি হয়।প্রশান্ত বর্মন অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, এটা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি একজন সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সত্যের জয় হবেই। প্রথমে বারাসত জেলা আদালত তাঁকে আগাম জামিন দেয়।

পরে বিধাননগর আদালতেও একই সিদ্ধান্ত আসে। জামিন পেয়ে তিনি কিছুদিন অফিসে ফিরেও যান, কাজকর্ম চালাতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ এই জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে যায়। তাদের অভিযোগ, প্রশান্ত জাল নথি পেশ করে জামিন নিয়েছেন এবং ঘটনার দিন তিনি নিউটাউনের নিজের ফ্ল্যাটে ছিলেন, যেখানে নাকি স্বপনকে নির্যাতন করা হয়।গত ২২ ডিসেম্বর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ হাইকোর্টে শুনানি করে প্রশান্তের আগাম জামিন খারিজ করে দেন।

একইসঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট সাফ জানায়, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে এ ধরনের জামিন দেওয়া যায় না, বিশেষ করে যখন প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের যোগসাজশ স্পষ্ট। এই নির্দেশের পর প্রশান্ত অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। জল্পনা ছড়ায় যে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছেন।হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্ত সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।

শোনা যায়, তাঁর হয়ে সওয়াল করতে পারেন বর্ষীয়ান আইনজীবী মুকুল রোহতাগী। কিন্তু আজ সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে কোনও ত্রুটি নেই। ফলে প্রশান্তকে এখন আত্মসমর্পণ করতেই হবে, নইলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে বিধাননগর আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google