ঢাকা: বাংলাদেশে সক্রিয় একটি ইসলামপন্থী গ্রুপ “ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা” (Islamist group)ভারত আক্রমণের খোলাখুলি হুমকি দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন আরিফ আল খাবির ও কাজী আহমেদের মতো ব্যক্তিরা। শুধু ভারত নয়, তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও ঘৃণামূলক প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাংলায় বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ থেকে এই ধরণের হুমকির ঘটনা সামনে আসছে। একটি ভিডিও বার্তায় তারা বলেছে “বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু চরম হিন্দুত্ববাদী এবং তিনি বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য করেন। তাই আমরা ভারত দখল করব।”
An Islamist group named “Insaf Kayemkari Chhatra-Sramik-Janara” in Bangladesh has threatened to invade India. This group comprises individuals namely Arif Al Khabir and Kazi Ahmad. It also has been spreading hatred against the United States and Israel. pic.twitter.com/Fef17Wsg8V
— Salah Uddin Shoaib Choudhury (@salah_shoaib) May 10, 2026
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তাদের বক্তব্য ইতিমধ্যে দুই দেশের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।সংগঠনটি সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করে, “ভারত যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমরা ভারতের ভেতরে ঢুকে জিহাদ চালাব।” আরিফ আল খাবির নামে এক নেতা বলেন, “হিন্দুস্তান আমাদের শত্রু। আমরা ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনতাকে একত্রিত করে ভারতের সীমান্তে আঘাত হানব।”
আরও দেখুনঃ শুধুমাত্র সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই চাকরি কোল ইন্ডিয়াতে, সম্পূর্ণ বিবরণ জানুন
কাজী আহমেদও একই সুরে বলেছেন যে, তাদের সংগঠন এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে নিয়ে লড়াই করবে। এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা যোগ করেছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই গ্রুপটি মূলত ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে কাজ করে। তারা বিভিন্ন মসজিদ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার করে আসছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলকে “ইসলামের শত্রু” বলে চিহ্নিত করে তারা সেখানকার নাগরিকদেরও আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। একটি অডিও বার্তায় আরিফ আল খাবির বলেন, “আমেরিকা ও ইসরায়েল যতদিন ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, ততদিন আমরা তাদের বিরুদ্ধে জেহাদ চালিয়ে যাব।” এই বক্তব্যগুলো টেলিগ্রাম ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।
বিএসএফ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এখনও এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানকার কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের উগ্রপন্থী গ্রুপগুলোর উত্থান ঘটছে।
তারা বলছেন, এই সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তাদের প্রভাব দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের সঙ্গে সঙ্গে ভারত-বিরোধী মনোভাবও বাড়ছে। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।




















