ভারতকে টুকরো করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিশে যাওয়ার বার্তা সেনা কর্তার

ঢাকা: ‘দিল্লির অত্যাচার বা আগ্রাসন মাত্রা ছাড়ালে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিশে যাবো (Bangladesh ex army officer)। আমরা একই জাত।’ এই হুঁশিয়ারি শোনা গেল বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনা কর্তার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-ex-army-officer-west-bengal-merge-threat

ঢাকা: ‘দিল্লির অত্যাচার বা আগ্রাসন মাত্রা ছাড়ালে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিশে যাবো (Bangladesh ex army officer)। আমরা একই জাত।’ এই হুঁশিয়ারি শোনা গেল বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনা কর্তার গলায়। প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে দলই বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক না কেন ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পণ্য সব কিছু বর্জন করতে হবে। তা সত্ত্বেও যদি বাংলাদেশের নতুন সরকার দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে তবে। কাঁটাতার কেটে পশ্চিমবঙ্গে মিশে যাবেন তারা এমনটাইবার্তা দিয়েছেন ওই সেনা কর্তা।

প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে ‘দিল্লির অত্যাচার’ এবং ‘আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “দিল্লির অত্যাচার যদি মাত্রা ছাড়ায়, তাহলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিশে যাব।

   

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি জুলাই যোদ্ধা নিলার

আমরা একই জাতি, একই সংস্কৃতি। কাঁটাতার কেটে আমরা এক হয়ে যাব।” এছাড়া তিনি দাবি করেছেন যে ভারতকে ‘টুকরো টুকরো করে ফেলতে হবে’ বাংলাদেশের শান্তির জন্য। এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত প্রাক্তন র‍্যাব কর্মকর্তা। ২০১৮-২০২০ সালে তিনি জোরপূর্বক নিখোঁজের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন, যা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ঘটেছিল। ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি সক্রিয়ভাবে ভারতবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।

সম্প্রতি শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার প্রতিবাদী বিক্ষোভে শাহবাগে দাঁড়িয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যে দলই ক্ষমতায় আসুক, ভারতীয় সংস্কৃতি, পণ্য সব কিছু বর্জন করতে হবে। দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে সমর্থন জানায়।

এই হুঁশিয়ারির পিছনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে। অনেকে মনে করেন, হাসিনার সরকার ভারতের ‘পুতুল’ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের মতে হাসিনুরের মতো প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা শুধু বাক্যবাণ নয় এর পিছনে গভীর অসন্তোষ এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ কাজ করছে।

ভারতের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি বাংলাদেশের অস্থিরতা ভারতের উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ‘মিশে যাওয়া’-র এই বার্তা বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাকে উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকে এটাকে ‘অবাস্তব হুমকি’ বলে উড়িয়ে দিলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের যুবকদের একটা অংশ এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে, আবার অনেকে বলছেন এটা দেশকে আরও অস্থির করবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google