আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারে নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টায় গ্রেফতার তোফিজার মিয়া। (Alipurduar)জেলার সোনাপুর এলাকায় ১২ বছরের এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী তোফিজার মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। পরে সোনাপুর পুলিশ আউটপোস্টে অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে তোফিজার মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার সোনাপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তোফিজার মিয়া কয়েকদিন আগে ওই নাবালিকার ১৫ বছরের দিদিকেও ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় ভয়ে মেয়েটি কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু এবার ছোট বোনের ওপর হামলার ঘটনায় সে পরিবারকে সব খুলে বলে। পরিবারের অভিযোগ, তোফিজার মিয়া বাড়িতে ঢুকে ছোট মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং অভিযুক্তকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়।
আরও দেখুনঃ ক্যানিং-গোসাবাতে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল খালি করে বিজেপি যোগের ঢল
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করেন এবং অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “একই ব্যক্তি দুই বোনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমন ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু প্রশাসন কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেয় না?” স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, “এই ধরনের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না হলে সমাজে শান্তি ফিরবে না।”
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোনাপুর পুলিশ আউটপোস্টে মেয়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তোফিজার মিয়ার বিরুদ্ধে পকসো আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “তৃণমূলের আমলে বাংলায় নাবালিকাদের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। অপরাধীরা দিনদুপুরে এমন কাজ করে পার পেয়ে যাচ্ছে।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, “এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আইন নিজের পথে চলবে।” তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে এবং অপরাধীরা কীভাবে এত সাহস পাচ্ছে?




















