বিপদের বার্তা দিলেন বিজেপি বিধায়ক। বললেন সিএএ (CAA) কার্যকর না হলে লোকসভা ভোটে বঙ্গে বড় বিপত্তি হবে দলের। হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের হলুদ সতর্কতায় বিপদ দেখছেন দলীয় নেতারা।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হলেও তা এখনও কার্যকর কেন হল না এই প্রশ্ন আগে থেকেই তুলেছিলেন বিজেপির মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত নেতারা। শুক্রবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা চলছিল বিধানসভায়। সেখানেই হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক বলেন, বিজেপি সরকার সিএএ বিল (নাগরিকত্ব বিল) পাশ করেছে। কিন্তু তিন বছর হয়ে গেল, এখনও সেই আইন কার্যকর করা হয়নি। যেই কারণে রাজ্যের উদ্বাস্তুরা ক্ষুব্ধ।
বিধায়ক বলেছেন, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে সিএএ কার্যকর না হলে উদ্বাস্তুরা আর বিজেপির পাশে থাকবে না। আর আমিও উদ্বাস্তুদের কাছে ভোট চাইতে পারব না।
বিধানসভার বাইরে এসে হরিণঘাটার বিধায়ক বলেন, দেশের মধ্যে বিজেপিই উদ্বাস্তুদের কথা ভেবেছে। আর সেই ভাবনার কারণেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ করেছে। তখন থেকেই রাজ্যের উদ্বাস্তুরা তাই আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আইন পাশ হওয়ার তিন বছর পরেও তা কার্যকর হয়নি। তাই উদ্বাস্তুরা আশাহত। আমি চাই, দ্রুত সিএএ কার্যকর হোক। না হলে উদ্বাস্তুরা বিজেপির পাশ থেকে সরে যাবেন।
তিনি বনেন, আমি নিজে উদ্বাস্তু প্রতিনিধি। আমিও সিএএ কার্যকর করার পক্ষে। কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ কার্যকর না করলে, আমি কী ভাবে তাঁদের কাছে ভোট চাইব। অসীম সরকার আরও বলেন, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে বিজেপির কোনও মতনৈক্য নেই। বরং তিনি বলেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ করেছিল, মানুষ তাদের দেখেছে। আর এই উদ্বাস্তুরা বিজেপির ওপর আস্থা রেখে দলকে ২ থেকে ১৮ আসনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের বিশ্বাসে আঘাত করা উচিত হবে না বলেই আমি মনে করি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, নাগরিকত্বের টোপ দিয়েই ২০১৯ সালে মতুয়া ভোট দখলে নিচ্ছে বিজেপি। এরপর থেকে সিএএ নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে প্রশ্ন বেড়েছে।
হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক এর আগে মতুয়া সম্পদায়ের এক অনুষ্ঠানে বলেন, মতুয়া সম্প্রদায় তাদের বিশ্বাস করে, ভোট দিয়ে ১৮টা আসন দিয়েছিল। এখন সিএএ লাগু না হওয়ার কারণে সেটা নিয়ে সত্যি সত্যি একটা ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে মতুয়াদের মধ্যে। সমস্ত মতুয়াদেরই এক হয়ে দাবি আদায় করতে পথে নামতে হতে পারে। সেই বার্তাটা দিয়ে রাখলাম। বিরোধিতা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে, কেবল মাত্র মতুয়া স্বার্থে পথে নামতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।




















