স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় বক্সিং রিংয়ে (Commonwealth Games) এবার উড়ল ভারতের তেরঙা। মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার স্কারলেট সাভান্না ডেলগাডোকে রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে সোনার পদক ছিনিয়ে নিলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ৫-০ ব্যবধানে একপেশে জয় তুলে নেন এই ভারতীয় তারকা বক্সার। চলতি গেমসে বক্সিংয়ের রিং থেকে ভারতকে প্রথম সোনার পদকটি এনে দিলেন তিনিই।
মেডাল বাউটে প্রীতি ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। প্রথম রাউন্ডের শুরু থেকেই কানাডিয়ান প্রতিপক্ষকে প্রবল চাপের মুখে রাখেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর একটি বিধ্বংসী পাঞ্চে ডেলগাডো নকডাউন হলে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়। তিন রাউন্ড শেষে পাঁচজন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে ভারতীয় বক্সারকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, গোটা টুর্নামেন্টে বিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি প্রীতি। এর আগে সেমিফাইনালে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওপেকেও ঠিক একই ব্যবধানে (৫-০) বিধ্বস্ত করে ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। গ্লাসগোর রিংয়ে তাঁর এই একচ্ছত্র আধিপত্য বুঝিয়ে দিল, ৫৪ কেজি বিভাগে বিশ্ব বক্সিংয়ে তিনি এখন অন্যতম সেরা নাম।
প্রীতির এই ঐতিহাসিক সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ঘাম ও অধ্যবসায়ের ফসল। ২০২৩ সালের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কাড়ার পর, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে অলিম্পিক কোটা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গেলেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাঁকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে থামতে হয়েছিল।
কিন্তু অলিম্পিকের সেই আক্ষেপই যেন তাঁর ভেতরের জেদ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। প্যারিসের পর বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে রিংয়ে নিজের জাত চেনান প্রীতি। গ্লাসগোর এই স্বর্ণপদক তাঁর সেই ধারাবাহিক সাফল্যের মুকুটেই আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করল। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের যে দাপট শুরু হয়েছিল, প্রীতির এই দাপুটে সোনা জয় আরও একবার প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে ভারতের সেই সোনালি লিগ্যাসি এখন অত্যন্ত সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে।




