২৪ ঘণ্টাতেই Google Earth-এর AI ফিচার বন্ধ, ভুয়ো ছবি নিয়ে উদ্বেগ

কলকাতা: চালুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে Google Earth-এর নতুন AI-চালিত স্যাটেলাইট ছবি তৈরির ফিচার প্রত্যাহার করল গুগল। ভুয়ো স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য…

google-earth-ai-image-feature-disabled-over-fake-satellite-image-concerns

কলকাতা: চালুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে Google Earth-এর নতুন AI-চালিত স্যাটেলাইট ছবি তৈরির ফিচার প্রত্যাহার করল গুগল। ভুয়ো স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশের পরই সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৩০ জুলাই গুগল “Create Image” নামে একটি নতুন ফিচার চালু করেছিল। এতে ব্যবহারকারীরা Google Earth-এ নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় জুম করে মাত্র কয়েকটি নির্দেশ (প্রম্পট) লিখেই AI-নির্ভর স্যাটেলাইট বা আকাশপথের দৃশ্য তৈরি করতে পারতেন। এই ফিচারে গুগলের Nano Banana 2 ইমেজ জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

Advertisements

ফিচারটি চালুর সময় গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ব্রায়ান হোরোভিটজ বলেছিলেন, এটি ব্যবহারকারীদের কল্পনাশক্তিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

তবে ফিচারটি চালুর পরই গবেষক এবং Open Source Intelligence (OSINT) বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ভুয়ো স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করা সম্ভব, যা সহজেই সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।

এরপরই গুগল এক বিবৃতিতে জানায়, “মানুষ বাস্তব বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ছবি দেখার জন্য Google Earth-এর উপর আস্থা রাখেন। আমরা দেখেছি অনেক ভূ-তথ্য বিশেষজ্ঞ এই ফিচারটি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করছেন। তবে এমন কিছু AI-তৈরি ছবির স্ক্রিনশটও ছড়িয়েছে, যা আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই ফিচারটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।”

গুগল আরও জানিয়েছে, AI দিয়ে তৈরি ছবিগুলি মূল Google Earth প্ল্যাটফর্মে অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে দৃশ্যমান ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতেই AI Generated ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল।

ওপেন সোর্স গবেষক হেঙ্ক ভ্যান এস দাবি করেন, তিনি এই ফিচার ব্যবহার করে মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী শিবির, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, গাজায় হাসপাতালের বোমা হামলা-সহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ের AI-চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি।

অন্যদিকে American Enterprise Institute-এর গবেষক ব্র্যাডি আফ্রিক বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ভুয়ো স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করা আরও সহজ করে দেবে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত স্যাটেলাইট ছবির বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গুগল অবশ্য জানিয়েছে, এই AI-তৈরি ছবিগুলিতে SynthID নামে একটি ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত থাকে। ব্যবহারকারীরা চাইলে Gemini বা Google Lens-এর মাধ্যমে কোনও ছবি AI দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।

সংস্থার দাবি, ক্ষতিকর বা সংবেদনশীল বিষয়ের ছবি তৈরি রুখতে তারা ইতিমধ্যেই একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে।