আর মাত্র চার মাসের জল মজুত, শহরবাসীকে আশ্বস্ত করল কর্তৃপক্ষ

বেঙ্গালুরু: চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন কিছুটা দেরিতে হলেও আগামী চার মাস বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) পানীয় জলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। এমনটাই জানিয়েছে বেঙ্গালুরু ওয়াটার সাপ্লাই…

bengaluru-water-supply-four-month-reserve-bwssb-reassures-residents

বেঙ্গালুরু: চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন কিছুটা দেরিতে হলেও আগামী চার মাস বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) পানীয় জলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। এমনটাই জানিয়েছে বেঙ্গালুরু ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ড (BWSSB)। সংস্থার দাবি, কৃষ্ণরাজ সাগর (KRS) এবং কাবিনি জলাধারে বর্তমানে যে পরিমাণ জল মজুত রয়েছে, তা আগামী কয়েক মাস শহরের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

BWSSB-এর তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর প্রতি মাসে প্রায় ২.৩ টিএমসি (Thousand Million Cubic Feet) পানির প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দুই জলাধারে থাকা জল সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

Advertisements

তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করেছে জল সরবরাহ বোর্ড। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর কাছে শহরের ভূগর্ভস্থ জলস্তর এবং বিদ্যমান বোরওয়েলের কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।

BWSSB-এর চেয়ারপার্সন জানান, IISc ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অবজারভেশন ওয়েল-এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ভবিষ্যতে জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যায়, তাহলে নতুন এলাকায় বোরওয়েল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে উদ্বেগের মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

একইসঙ্গে শহরবাসীর কাছে জল সংরক্ষণের আবেদনও জানিয়েছে বোর্ড। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, পানীয় জল দিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ধোয়া, বাগানে জল দেওয়া বা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। যাঁদের নিজস্ব বোরওয়েলের জল রয়েছে, তাঁরা সেই জলই এসব কাজে ব্যবহার করুন।

এদিকে, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন Central Public Health and Environment Engineering Organisation (CPHEEO)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিকাশি ব্যবস্থা-সমৃদ্ধ শহরগুলিতে একজন মানুষের দৈনিক ১৩৫ লিটার (LPCD) জল প্রয়োজন। এই হিসাবের মধ্যে পানীয় জল, রান্না, স্নান, শৌচাগার ব্যবহার, কাপড় ও বাসন ধোয়া এবং গৃহস্থালির অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যদিও আপাতত বেঙ্গালুরুর জল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ নেই, তবুও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জল সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে BWSSB।