Chandrayaan-5: মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত আবারও ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এবং জাপানের মহাকাশ সংস্থা (JAXA) চাঁদের সবচেয়ে রহস্যময় অঞ্চলটি নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চন্দ্রযান-৫ মিশন নিয়ে আলোচনার জন্য বেঙ্গালুরুর ইউ. আর. রাও স্যাটেলাইট সেন্টারে উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। দুটি দেশের এই যৌথ অভিযান কেবল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ ও জলের বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধানই করবে না, বরং চাঁদে ভবিষ্যতে মানুষের বসতি স্থাপনের পথও প্রশস্ত করবে।
চন্দ্রযান-৫, যা ‘লুপেক্স’ (LUPEX বা Lunar Polar Exploration Mission) নামেও পরিচিত, সেটি ২০২৭-২০২৮ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। এই মিশন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-৫ মিশনের ল্যান্ডার, রোভার এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ল্যান্ডার ও রোভারের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে তৈরি হতে থাকা লুনার ল্যান্ডার এবং জাপানে নির্মিত রোভারের মধ্যকার ‘ইন্টারফেস কন্ট্রোল স্পেসিফিকেশন’ বা সংযোগ-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের পর এই দুটি ব্যবস্থার মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এই সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
এর পাশাপাশি, জাপানি রোভারে বহনযোগ্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই যন্ত্রপাতিগুলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুর পৃষ্ঠতল পরীক্ষা করবে এবং সেখানে বিদ্যমান বরফ ও জলের মজুত অনুসন্ধান করবে।
Technical coordination is underway at ISRO’s U R Rao Satellite Centre (URSC) in Bengaluru, India 🇮🇳. Discussions are focused on the ICS between the ISRO lander and the JAXA rover, as well as the rover’s onboard science instruments. Strong collaboration between ISRO and JAXA teams… pic.twitter.com/dWBebmgkAJ
— Lunar Polar Exploration@JAXA(LUPEX) (@lupex_jaxa) July 29, 2026
চন্দ্রযান-৩-এর তুলনায় চন্দ্রযান-৫ কতটা আলাদা হবে?
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে ‘সফট-ল্যান্ডিং’ বা মৃদু অবতরণ করে চন্দ্রযান-৩ ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। চন্দ্রযান-৩-এর মূল লক্ষ্য ছিল অবতরণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা এবং স্বল্পমেয়াদী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো।
এদিকে, চন্দ্রযান-৫-এ থাকবে উন্নত ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় আকারের রোভার। এই রোভারটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে এবং চাঁদের সেই গভীর ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলে—যেখানে সূর্যের আলো কখনোই পৌঁছায় না—ব্যাপক গবেষণা চালাতে সক্ষম হবে।
জলের সন্ধান করা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চাঁদের এই মেরু অঞ্চলগুলোতে এমন বরফের ভাণ্ডার থাকতে পারে যা কোটি কোটি বছর ধরে জমে আছে। চাঁদে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদী চন্দ্র অভিযানের জন্য জল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
চন্দ্রযান-৫ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো চাঁদে জলের পরিমাণ ও অবস্থান নির্ণয় করা এবং তা আহরণের সম্ভাবনা যাচাই করা। এছাড়া, এই অভিযান চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বুঝতেও সহায়তা করবে।





