নয়াদিল্লি: প্রশ্নপত্র ফাঁক ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাশ হয়ে গেল ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। এই নতুন আইনে দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে কোটি টাকারও বেশি জরিমানার নিদান রাখা হয়েছে। তবে এই বিল পাশকে কেন্দ্র করে এদিন সংসদ চত্বরে চরম রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়।
রাহুল বনাম কেন্দ্র সংঘাত ও জিতেন্দ্র সিংয়ের জবাব
বুধবার লোকসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় গত ২০ জুলাইয়ের ছাত্র বিক্ষোভ এবং পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শোনান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। রাহুলের এই মন্তব্যের পরই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শাসক দলের সাংসদরা। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে রাহুলের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
পালটা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুলের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। তিনি সাফ জানান, পুলিশি গুলিবর্ষণের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার কেবল ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, কোনো মন্ত্রীর নয়। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী জনজীবনে অনভিজ্ঞ বলেও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। হট্টগোল ও প্রতি Dবাদের মাঝেই ধ্বনিভোটে বিলটি লোকসভায় পাশ হয়ে যায়। উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভায় পাসের অপেক্ষায় থাকা এই নতুন সংশোধিত বিলে পেপার লিক রোধে দ্রুত বিচার ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের জোরালো প্রস্তাব রয়েছে।





