রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে গ্রেফতার করা হল সিপিআই (মাওবাদী)-র প্রবীণ নেতা মিসির বেসরাকে। মঙ্গলবার রাতে যৌথ অভিযানে তাঁর সঙ্গে আরও দুই মাওবাদী নেতাকেও আটক করা হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সি এই শীর্ষ নেতার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল প্রশাসন।
কে এই মিসির বেসরা?
মূলত ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহির নিবাসী মিসির বেসরা মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য বলে পুলিশের দাবি৷ সংগঠনের অন্যান্য পলিটব্যুরো সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে বন্দি হয়েছেন, নতুবা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন।
মাওবাদী সংগঠনে তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার হিসেবে পরিচিত মিসিরের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। কমরেড মহলে তিনি ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। প্রায় দু’দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
এর আগে ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও, ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে মামলা চলাকালীন পুলিশের হেফাজত থেকে চম্পট দেন তিনি। সে সময় মাওবাদীরা আদালত চত্বরে আচমকা হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।
কীভাবে ধরা পড়লেন মিসির?
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর আসে যে মিসির বেসরা তাঁর কিছু সঙ্গীকে নিয়ে পারশনাথ পাহাড়ের নিচের জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালানোর সময় ঘেরাও করে তাঁকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে ধরে ফেলেন জাওয়ানরা।
কী বলছেন ছেলের প্রতিক্রিয়া?
পিতার গ্রেফতারির খবর নিয়ে মিসিরের ছেলে সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বা সিআরপিএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। তিনি সংবাদ মাধ্যম বা বিভিন্ন সূত্র মারফতই খবরটি পেয়েছেন। সিদ্ধার্থ জানান, গত ২০ বছর তিনি তাঁর বাবাকে দেখেননি। তবে ১৫ দিন আগে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে বাবাকে আত্মসমর্পণের আর্জি জানিয়ে চিঠি লিখতে বলেছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর বাবা যে জীবিত আছেন, তা জানতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন।
জোড়া ঝড়ের গুঞ্জন উড়িয়ে আবহাওয়ার আসল রহস্য ফাঁস করল ইসরো
নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারত বিরোধী বালেন শাহকে ভারতে ডেকে কূটনীতির বড় চাল মোদীসরকারের





