অশোকনগরে প্রকাশ্যেই চলছে গো হত্যা! জানাজানি হতেই চম্পট অভিযুক্তরা

আশোকনগর: উত্তর ২৪ পরগনার আশোকনগর থানার অন্তর্গত পারুয়ালিয়া গ্রামে ফের ছড়াল চাঞ্চল্য (Cow Slaughter)। গো-হত্যার একটি ঘটনা ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় সূত্রে জানা…

ashoknagar-alleged-cow-slaughter

আশোকনগর: উত্তর ২৪ পরগনার আশোকনগর থানার অন্তর্গত পারুয়ালিয়া গ্রামে ফের ছড়াল চাঞ্চল্য (Cow Slaughter)। গো-হত্যার একটি ঘটনা ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে কিছু ব্যক্তি গ্রামের মধ্যে একটি গোরু জবাই করার সময় ধরা পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিন্দু সংগঠন ‘হিন্দু সংহতি’র সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। অভিযুক্তরা তখন সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

পরে হিন্দু সংহতির সদস্যরা আশোকনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও তিনটি গোরু উদ্ধার করেছে, যেগুলি জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম শরিফুল মণ্ডল। অন্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ১৫ বছরের নীল-সাদা ঐতিহ্যে বদল! গেরুয়া ছোঁয়া লাগল নবান্নের নামফলকে

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে এই ঘটনা ঘটায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু সংহতির কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের কাজ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর। তাঁরা দাবি করেছেন, পুলিশ যেন দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

পশু জবাই সংক্রান্ত আইন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। রাজ্যে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না হলেও, প্রকাশ্যে গো হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। অনেক জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলি এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে। কিন্তু বারবার এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

আরও দেখুনঃ সাতসকালে দুর্গাপুরে এনআইএ-র বড়সড় হানা, তল্লাশির পর গ্রেফতার লেবার সাপ্লায়ার

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আশোকনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত করছে এবং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করব না। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।”

রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে অনেকেই বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার ১৯৫০ র গোহত্যা আইনকে মাথায় রেখে বলেছে ১৪ বছরের নিচে কোনো গো হত্যা করা যাবে না কিন্তু অশোকনগরের এই দৃশ্য রীতিমত আইন লঙ্ঘন এবং এই আইনভঙ্গকারী দোষীদের শাস্তি হয়ে উচিত।

আরও দেখুনঃ ৩৪ বছরের ইতিহাসে বাংলায় শিল্প-সংস্কৃতির অনন্য নজির সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের