ফরাসি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘দাসো এভিয়েশন’ (Dassault Aviation) তাদের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান কর্মসূচি—’রাফাল এফ৫’ (Rafale F5)-এর উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। ‘সুপার রাফাল’ হিসেবে পরিচিত এই বিমানটি প্রযুক্তি ও আঘাত হানার সক্ষমতার দিক থেকে বর্তমান রাফাল মডেলগুলোর (এফ৩আর ও এফ৪ স্ট্যান্ডার্ড) তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), হাইপারসনিক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্টিলথ ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত হতে যাওয়া এই নতুন রাফাল যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
রাফাল এফ৫ স্ট্যান্ডার্ডটি কবে নাগাদ প্রস্তুত হবে?
‘এভিয়েশন উইক’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাফাল এফ৫-এর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কার্যক্রম ২০২৬-২০২৭ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। রাফালের এই নতুন সংস্করণটি ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে—সুনির্দিষ্টভাবে ২০৩২ বা ২০৩৩ সালে—সেবায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই আপগ্রেডটি ২০৫০-২০৬০ সাল পর্যন্ত রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমানের তালিকায় ধরে রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়া, রাফাল এফ৫ (Rafale F5) পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্রেও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করবে।
রাফাল এফ৫: উন্নত সেন্সর এবং আরবিই২-এক্সজি (RBE2-XG) রাডার
রাফাল এফ৫ (Rafale F5) সংস্করণে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি নতুন আরবিই২-এক্সজি (RBE2-XG) এইসা (AESA) রাডার যুক্ত করা হবে। এই রাডারটি অত্যন্ত দূরপাল্লা থেকে শত্রুপক্ষের স্টিলথ যুদ্ধবিমান (যেমন জে-২০ বা সু-৫৭) শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বিমানটিতে একটি নতুন ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।
ভারতের জন্য একটি বড় সুযোগ
ডাসোর রাফাল এফ৫ (Rafale F5) সংস্করণটি ভারতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারত এফ৩ (F3) মানের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে; ফলে, তাদের সামনে নিজেদের বিমানবহরকে এফ৫ মানে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ভারত তার বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী—উভয়ের জন্যই এফ৫ মানের যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করতে পারে।





