বিশ্বকাপের রেশ কাটতেই কলকাতা ডার্বি, ফিরবে কি ফুটবল উন্মাদনা?

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক সপ্তাহ পর ডুরান্ড কাপে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। নতুন দল, নতুন কোচ আর কম প্রত্যাশার মাঝেই শুরু হচ্ছে মরসুমের প্রথম ডার্বি (Kolkata Derby)।

kolkata-derby-after-world-cup-final-east-bengal-vs-mohun-bagan-preview

আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby) দিয়ে শুরু হচ্ছে ভারতের নতুন ফুটবল মরসুম। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। মরসুমের শুরুতেই ডার্বি রেখে দর্শকদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে আয়োজকরা। তবে অতীতের তুলনায় এ বার ডার্বিকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা অনেকটাই কম বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি শেষ হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সেরা ফুটবল উপভোগ করার পর ভারতীয় ফুটবলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে বলেই মত অনেকের। তার উপর দুই দলই এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে প্রাক-মরসুম অনুশীলন শুরু হওয়ায় ফুটবলারদের ম্যাচ ফিটনেসও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে ডার্বিতে সর্বোচ্চ মানের ফুটবল দেখার আশা কম।

Advertisements

 

গত মরসুমে দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার আইএসএল জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেই সাফল্যের নেপথ্যের কোচ অস্কার ব্রুজো এবং অধিকাংশ বিদেশি ফুটবলারকে ধরে রাখতে পারেনি লাল-হলুদ। ক্লাব পরিচালনা ও ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চয়তা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ব্রুজো। একই সময়ে ইমামিও বিনিয়োগকারী হিসেবে সরে দাঁড়ায়। এরপর সভাপতি মুরারীলাল লোহিয়ার সংস্থা জুপিটার ওয়াগন্সের আর্থিক সহায়তায় নতুন করে দল গঠনের কাজ শুরু করে ইস্টবেঙ্গল।

নতুন মরসুমে দেশীয় ফুটবলার হিসেবে দানিশ ফারুক, বরিস সিংহ, রোহিত দানু ও হার্দিক ভট্টদের দলে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। বিদেশিদের মধ্যে এসেছেন এনসুগু এফিয়ং, নাচো মনসালভেস ও দানি রামিরেজ। গত মরসুমের বিদেশিদের মধ্যে একমাত্র মহম্মদ রশিদকে ধরে রাখা হয়েছে। ফলে প্রায় নতুন দল নিয়েই মাঠে নামতে চলেছে লাল-হলুদ।

অন্যদিকে মোহনবাগান পুরনো কোর গ্রুপ ধরে রেখেই দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও রবসন রোবিনহো দল ছাড়লেও জেমি ম্যাকলারেনকে রেখে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইএসএলে পরিচিত মুখ দেজান দ্রাজিচকে দলে নিয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির।

সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে ইস্টবেঙ্গল থেকে দলে টানা। গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। কোচ অস্কার ব্রুজো থাকলে হয়তো মিগুয়েলও থেকে যেতেন। কিন্তু কোচ বিদায়ের পর মোহনবাগানের প্রস্তাব গ্রহণ করেন ব্রাজিলীয় ফুটবলার। মাঝমাঠে তাঁর উপস্থিতি সবুজ-মেরুনকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়াও ফ্রি ট্রান্সফারে মুম্বই সিটি থেকে জাতীয় দলের তারকা লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে দলে নিয়েছে মোহনবাগান। বাঁ প্রান্তে লিস্টন কোলাসো এবং ডান দিকে ছাংতের গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারে। রক্ষণভাগেও রয়েছে স্থিতিশীলতা। আলবের্তো রদ্রিগেজ, মেহতাব সিংহ, অভিষেক সিংহ ও রাহুল ভেকের উপস্থিতি মোহনবাগানের ডিফেন্সকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নতুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসেরও এটাই প্রথম বড় পরীক্ষা। পঞ্জাব এফসি-তে ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবেই মোহনবাগানের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তবে প্রথম ম্যাচেই কলকাতা ডার্বি হওয়ায় তাঁর উপর চাপ থাকবে স্বাভাবিকভাবেই।

দুই দলের বিদেশি ফুটবলারদের অনেকেই এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন। মোহনবাগানে দেজান দ্রাজিচ অনুশীলন শুরু করলেও আলবের্তো সদ্য দলে যোগ দিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলেও দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদ এখনও পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। তাই ডুরান্ড কাপের প্রথম ডার্বিতে দুই দলই মূলত ভারতীয় ফুটবলারদের উপর ভরসা করতে পারে।

সব দিক বিচার করলে শক্তির নিরিখে কিছুটা এগিয়ে মোহনবাগান। তবে কলকাতা ডার্বিতে অতীতের পরিসংখ্যান বা কাগজে-কলমের শক্তি অনেক সময়ই গুরুত্ব হারায়। নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচে দুই প্রধান কীভাবে নিজেদের মেলে ধরে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।