যন্তর মন্তরের আন্দোলনে বাড়ছে স্বাস্থ্য সংকট, গরম-ভিড়ে অসুস্থ শতাধিক বিক্ষোভকারী

তীব্র গরম, আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে ভাইরাল সংক্রমণ, জ্বর ও ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন বহু বিক্ষোভকারী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

jantar-mantar-neet-protest-health-crisis-viral-infections-dehydration

নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে চলতে থাকা আন্দোলনের (NEET Protest) মধ্যে এবার সামনে এল স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের ছবি। তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের কারণে বহু আন্দোলনকারী ভাইরাল সংক্রমণ, জ্বর, ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন সেখানে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা।

আন্দোলনস্থলে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন পঞ্জাবের ফাইভ রিভার হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর চিকিৎসক ডা. শিল্পা। তিনি জানান, প্রতিদিনই বহু মানুষ গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর এবং ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিতে আসছেন।

Advertisements

ডা. শিল্পার কথায়, খোলা জায়গায় মাটিতে ঘুমানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া এবং সঠিক খাবারের অভাবের কারণে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স্ক আন্দোলনকারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যাও বাড়ছে। যাঁরা নিজেদের নিয়মিত ওষুধ আনতে পারেননি বা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

Also Read |  ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই! সূত্রের খবরে উস্কাল বিতর্ক

ডা. শিল্পা আরও জানান, অনেকেই পর্যাপ্ত খাবার খাচ্ছেন না। এর ফলে বমি বমি ভাব, বমি এবং ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন ব্যক্তিদের জন্য আন্দোলনস্থলে খাবার এবং ওআরএস (ORS) দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

পাটিয়ালার এক স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাল সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাল জ্বরের পাশাপাশি কাশি, পায়ে মচকানো এবং ছোটখাটো আঘাত নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আসছেন।

চিকিৎসকদের দাবি, আশপাশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরাও নিয়মিত দায়িত্ব শেষ করে আন্দোলনস্থলে এসে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরিষেবা দিচ্ছেন। সবসময় চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসকের একটি দল সেখানে উপস্থিত থাকছে।

Also Read |  সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়া যাবে না আদালতের ভিডিও রেকর্ডিং! নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

তাঁদের কাছে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, ক্ষতের মলম, ওআরএস, অ্যালার্জির ওষুধ, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের ওষুধ, কাশির সিরাপসহ বিভিন্ন জরুরি ওষুধ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী দান করছেন।

এমনই এক স্বেচ্ছাসেবী, ২২ বছরের ছাত্রী পিয়ু, আন্দোলনকারীদের জন্য প্যারাসিটামল, ওআরএস, ব্যান্ডেজ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী দান করেছেন।

ডা. শিল্পা জানান, ২০ জুলাই বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশি পদক্ষেপের সময় দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে অনেকের পা মচকে যায়। আবার কেউ কেউ লাঠির আঘাত পেলেও সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেননি। ফলে পরে সেই আঘাতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

Also Read |  ২৬ জুলাই যন্তরমন্তরে বিক্ষোভকারীদের পিঠ লাল করে দেওয়ার হুমকি হিন্দু রক্ষা দলের

আন্দোলনে অংশ নেওয়া আজাদ মার্কেটের বাসিন্দা রোশনারা জানান, তাঁর পা মচকে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে ব্যথা উপশমের স্প্রে দেন। অন্যদিকে ৬৪ বছরের আনন্দ শ্রীবাস্তব, যিনি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকেরা তাঁর রক্তচাপ পরীক্ষা করে ওষুধ দেন।

উল্লেখ্য, Cockroach Janta Party (CJP)-এর নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে এই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, NEET প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।