জম্মু-কাশ্মীরে চিনের ‘অবৈধ দখল’ নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের

নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের উপস্থিতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল ভারত। শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জম্মু-কাশ্মীর…

MEA Spokesperson Randhir Jaiswal

নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের উপস্থিতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল ভারত। শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডে চিন “অবৈধভাবে দখল” করে রয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের দাবি করা এলাকায় চিন যে বিভিন্ন প্রকল্প চালাচ্ছে, তারও তীব্র বিরোধিতা করেছে নয়াদিল্লি।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চিনকে নিশানা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। তিনি বলেন, “বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই বলেছেন, সার্বভৌমত্বের বিষয় এলে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতেরই রয়েছে। ভারত কখনও চিনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি এবং এই অবস্থান সবসময়ই বজায় রেখেছে।”

Advertisements

এরপরই তিনি চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, “১৯৬৩ সাল থেকে চিন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের যে এলাকাগুলি ভারতের অংশ, সেখানে চিন বিভিন্ন প্রকল্প চালাচ্ছে এবং ভারত তার বিরোধিতা করছে।”

জয়শঙ্কর-ওয়াং ই বৈঠকের পরেই কড়া মন্তব্য

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন একদিন আগেই ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ASEAN সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠক করেছেন। দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা চিনের

বৈঠকের পর চিনের বিদেশ মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেন, কাজান এবং তিয়ানজিনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে উন্নয়নের সঠিক পথে নিয়ে গেছে।

ওয়াং ইর দাবি, চিন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি আরও জানান, এই অগ্রগতি সহজে আসেনি, তাই তা ধরে রাখা জরুরি।

সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব

চিনের বিদেশমন্ত্রী বলেন, উদীয়মান অর্থনীতি এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের উচিত মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা।

একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য, গণমাধ্যম এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। সংবেদনশীল বিষয়গুলি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালনা করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝেই সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের স্পষ্ট বার্তা

ভারত ও চিন সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলেও, সীমান্ত এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নয়াদিল্লি যে কোনো আপসের পথে হাঁটছে না, তা বিদেশ মন্ত্রকের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

একদিকে দুই দেশ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে ভারতের আপত্তি দুই দেশের মধ্যে এই সংবেদনশীল ইস্যুটি এখনও যে অমীমাংসিত, তা আরও একবার সামনে এনে দিল।