নয়াদিল্লি: ইউপিএসসি-র মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষায় সংস্কার আনতে চলেছে মোদী সরকার। (National Exam)সর্বভারতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা চলছে, যা ভবিষ্যতে সব কেন্দ্রীয় চাকরির পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এককভাবে পরিচালনা করবে। এই প্রস্তাবিত সংস্থাটি প্রশ্নপত্র তৈরি, পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ, পরিদর্শক নিয়োগ এবং ফলাফল ঘোষণা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে।
সূত্র অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি সমর্থন রয়েছে এই সংস্কারের পেছনে। বর্তমানে কাজ শুরু হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সরকার আগামী বছর থেকে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের চাকরির পরীক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা আলাদা আলাদাভাবে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করে।
আরও দেখুনঃ রাজধানীর উত্তেজনার আবহে! জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রশাসনকে
স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, ব্যাংকিং সার্ভিসেস রিক্রুটমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইবিপিএস) সহ আরও অনেক সংস্থা নিজস্ব নিয়মে পরীক্ষা নেয়। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, কাগজ লিক, অনিয়ম এবং অসমন্বয়ের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন, কিন্তু বারবার অনিয়মের কারণে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
নতুন স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে এই সমস্যাগুলো কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত এই নতুন সংস্থাটি ইউপিএসসি-র আদলে তৈরি করা হবে। ইউপিএসসি যেভাবে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পরিচালনা করে এবং তার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেছে, ঠিক সেই মানদণ্ডে সব কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চালানো হবে।
প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লিক প্রতিরোধ, সিসিটিভি মনিটরিংসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ফলাফল প্রক্রিয়া থাকবে। একক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় সমন্বয়ও সহজ হবে।সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো চাকরির পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
আরও দেখুনঃ মকর দ্বারে শাসক-বিরোধী খণ্ডযুদ্ধ, স্লোগান আর ধাক্কাধাক্কিতে উত্তাল সংসদ চত্বর
যুবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা দূর করতে এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় এখনও বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে। কীভাবে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা একসঙ্গে সমন্বয় করা হবে, কর্মীদের পুনর্বিন্যাস এবং আর্থিক দিকগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।




