বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ৪৮ দল, ১০৪ ম্যাচ এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) শেষ হয়েছে দুর্দান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্টজুড়ে যেমন প্রতিষ্ঠিত তারকারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, তেমনই উঠে এসেছে একাধিক নতুন মুখ। কেউ গোল করে, কেউ রক্ষণে, আবার কেউ মাঝমাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এবার সেই সেরাদের নিয়েই নিজেদের অফিশিয়াল টিম অফ দ্য টুর্নামেন্ট প্রকাশ করেছে ফিফা।
গোলরক্ষকের দায়িত্বে জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের ভোজিনহা। গোটা টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। একের পর এক দুরন্ত সেভ করে তিনি কার্যত একাই কেপ ভার্দেকে নকআউট পর্বে তুলেছিলেন। এমনকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনও তাঁর সামনে গোল করতে হিমশিম খেয়েছে। রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে যে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ম্যাচ টেনে নিয়ে যেতে পেরেছিল, তার বড় কৃতিত্বও ভোজিনহার।
রক্ষণভাগে চারজনের মধ্যে দু’জনই স্পেনের। ডানদিকে পেদ্রো পোরো এবং বাঁদিকে মার্ক কুকুরেয়া জায়গা পেয়েছেন। দুই ফুল-ব্যাকই পুরো বিশ্বকাপে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দায়িত্বই দারুণভাবে সামলেছেন। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পোরোর করা গোল স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অন্যদিকে কুকুরেয়া ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন।
দলবদলের বাজারে বড় চমক! ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে পুরনো ডেরা ওড়িশাতে নন্দকুমার
সেন্টার-ব্যাক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপমেকানো। দু’জনেই শক্তিশালী রক্ষণ গড়ে তোলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জেতা স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি সেরা একাদশে জায়গা না পাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন তিন তারকা। স্পেনের রদ্রি গোল বা অ্যাসিস্টে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও পুরো দলের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন অসাধারণ দক্ষতায়। ফ্রান্সের মাইকেল ওলিস পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে নিজেকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সৃজনশীল মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম মাঝমাঠ থেকে সাতটি গোল করে দেখিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক ফুটবলে মিডফিল্ডাররাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন।
হাসপাতালে পরিণত টিম ইন্ডিয়া! বড় তদন্তে নামছে BCCI
আক্রমণভাগে রয়েছে তিন মহাতারকার নাম। লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল সংখ্যা। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে গোল, অ্যাসিস্ট এবং নেতৃত্ব সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, যিনি ১০টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে সবচেয়ে ধারাবাহিক ফরোয়ার্ড হিসেবেই তাঁকে বিবেচনা করা হয়েছে। তৃতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। সাতটি গোল করার পাশাপাশি নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সামগ্রিক প্রভাবই তাঁকে এই সম্মান এনে দিয়েছে।
ফিফার ঘোষিত এই সেরা একাদশে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব স্পেন ও ফ্রান্সের। দুই দেশেরই তিনজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে রয়েছেন দু’জন, আর ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও কেপ ভার্দে থেকে একজন করে ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্বকাপের সেরা একাদশ:
ভোজিনহা, পেদ্রো পরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, দায়োত উপামাকানো, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ওলিস, জুড বেলিংহ্যাম, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড





