তেহেরান: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা কড়া বার্তা দিল ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।
ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, IRGC দাবি করেছে, সংঘাত চলতে থাকলে তারা এমন অভিযান চালাবে, যা “আমেরিকায় জাতীয় শোকের পরিস্থিতি তৈরি করবে”। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশের মতে, এই মন্তব্যে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর (9/11)-এর সন্ত্রাসী হামলার ইঙ্গিত থাকতে পারে। তবে IRGC সরাসরি সেই হামলার নাম উল্লেখ করেনি।
এই হুঁশিয়ারি এমন সময় এল, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি কোনও জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, তাহলে প্রতিটি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি নিজের তেল রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে অঞ্চলের অন্য কোনও দেশও তেল রপ্তানি করতে পারবে না।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “এই যুদ্ধের সমীকরণ স্পষ্ট, হয় সবাই, নয় কেউই।” তাঁর দাবি, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নিরাপদ থাকবে না। পাশাপাশি, মার্কিন সেনা যত দিন এই অঞ্চলে থাকবে, তত দিন হরমুজ প্রণালীও নিরাপদ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের উপর হামলা চালায়, তাহলে তার জবাবে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি সংক্রান্ত স্থাপনা, লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্পও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বা আন্তর্জাতিক জাহাজে ইরানের যে কোনও ধরনের হামলার জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।





