‘দিদিকে বুঝতে হবে, না হলে দল শেষ হয়ে যাবে!’ বিস্ফোরক কল্যাণ

কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে সময়সীমা ও শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষের জেরে তৈরি হওয়া মনকষাকষির রেশ কাটেনি, বরং তা আরও তীব্র আকার ধারণ করল। বুধবার সকালে নতুন দিল্লিতে…

কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে সময়সীমা ও শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষের জেরে তৈরি হওয়া মনকষাকষির রেশ কাটেনি, বরং তা আরও তীব্র আকার ধারণ করল। বুধবার সকালে নতুন দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, দিদিকে ভালোবাসলেও তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, না হলে দল নিজেই নিজের হাতে শেষ হয়ে যাবে।

মঞ্চের ঘটনা ও অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

সাংবাদিক বৈঠকে মঙ্গলবারের ঘটনার বিবরণ দিয়ে কল্যাণ বলেন, মঞ্চে ঢোকার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল তাঁকে। তিনি বলেন, “আমি কুণালকে জিজ্ঞেস করে দিদির অনুমতি নিয়েই বলতে শুরু করি। কিন্তু অভিষেক এসে স্টেজে ঘুরতে থাকে নিজের জনপ্রিয়তা দেখানোর জন‍্য। তখন বক্তৃতা ৫-৭ মিনিট বন্ধ রাখি। এরপর দিদি আসলেও আরও ৫ মিনিট বন্ধ রাখি। দিদির অনুমতি নিয়েই আবার বলি।”

Advertisements

এরপরই প্রকাশ্য মঞ্চে অপমানিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “কথা শেষ করতে দিদি অত্যন্ত অপমানজনকভাবে বলেন যে আমি ১ ঘণ্টা বক্তৃতা করছি। এভাবে সর্বসমক্ষে অপমান করা ভালো লাগে না।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, “অভিষেক এত বড় নেতা হলে দু-আড়াই মাস ঘোরে না কেন? আমি তো ঝুঁকি নিয়ে ঘুরেছি, কর্মীদের সাহস জুগিয়েছি। দিদির এত ঘনঘন বিরক্ত হলে হবে না। দিদি যদি মনে করেন অভিষেক এসেছে, তাই আমাদের বসে থাকতে হবে, তাহলে অভিষেককে নিয়ে থাকুন, আমাদের ছেড়ে দিন।”

আরজি কর কাণ্ড ও দলের অন্দরের সমীকরণ

সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করে কল্যাণ বলেন, আরজি কর কাণ্ডের সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল দলেরই একাংশ। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে জানান যে সেই সময় তিনি ও কুণাল ঘোষই নেত্রীর পাশে ছিলেন। পাশাপাশি সুখেন্দুশেখর রায় ও অন্যান্যদের নিশানা করে তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালে তিনি যখন অভিষেকের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, তখন কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়া আর কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াননি।

‘দল ছেড়ে দেব না, দলে থেকেই লড়াই করব’

পরিবার ও রাজনৈতিক ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আমার জীবন, যৌবন, প্রফেশন, সংসার সব দিদির জন‍্য স‍্যাক্রিফাইজ করেছি। উনি যদি অভিষেক অভিষেক করেন, তাহলে তো আমাদের সমস‍্যা হয়ে যাচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে আমি দলে থেকেই লড়াই করব।” তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝলে দল চরম পরিণতির দিকে এগোবে বলেও তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, কল্যাণের এই সমস্ত বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তৃণমূল করি। এর বেশি কিছু বলব না।”

মোদীসরকারের আমলে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ১.৪২ লক্ষ কোটির ! বাদল অধিবেশনে তুলকালাম সংসদ

‘এই অপমান আমার প্রাপ্য নয়’, দলনেত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর ক্ষোভ প্রকাশ কল্যাণের