বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই উত্তেজনা, চাপ আর আবেগের লড়াই। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালেও সেই ছবিই দেখা গেল। তবে ম্যাচের ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত সময়ে নয়, আসল উত্তেজনা ছড়াল শেষ বাঁশি বাজার পর। খেলা চলাকালীন দুই দলের ফুটবলাররা বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। দু-একটি শক্ত ট্যাকল এবং সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও ম্যাচ কখনও হাতের বাইরে যায়নি। রেফারিকেও খুব বেশি কার্ড বের করতে হয়নি। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের পরিবেশ একেবারে বদলে যায়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের ফুটবলাররা বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন। কেউ সতীর্থদের জড়িয়ে ধরছেন, কেউ দর্শকদের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চোখেমুখে তখন শুধুই হতাশা। কেউ মাঠে বসে পড়েছেন, কেউ আবার ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ে নিজের কষ্ট লুকোনোর চেষ্টা করছেন। ঠিক সেই সময়ই মাঠের মাঝখানে দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই তর্ক ধাক্কাধাক্কি, তারপর হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়।
মেসির চোখের জলেই বাড়ল জল্পনা, আর্জেন্টিনার জার্সিতে কি শেষ ম্যাচ খেললেন লিও?
ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ম্যাচেও তিনি বেশ আগ্রাসী ফুটবল খেলেছেন। মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটি কঠিন ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছিল তাঁকে। শেষ বাঁশির পরও তাঁর মেজাজ ঠান্ডা হয়নি। প্রথমে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে চলতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন। এরপর স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিও সেখানে চলে এলে তাঁর সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে। ধাক্কা লেগে গাভি মাটিতে পড়ে যান। পুরো ঘটনা দেখে রেফারি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
“সিএফএল কি আদৌ পেশাদার লিগ?” বিষ্ফোরক ব্যারেটো
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝেই মাঠে ছুটে আসেন দুই দলের কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। সবাই মিলে ফুটবলারদের আলাদা করার চেষ্টা করেন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করার জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় তাঁরও স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সাধারণত স্কালোনিকে খুব শান্ত স্বভাবের কোচ হিসেবেই সবাই চেনেন। তাই তাঁকে এতটা উত্তেজিত অবস্থায় দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন।
এদিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির সঙ্গে স্পেন অধিনায়ক রদ্রিরও কথা কাটাকাটি হয়। তবে তাঁদের মধ্যে বিষয়টি শুধু তর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল। সতীর্থরা দ্রুত এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি আর হাতাহাতির দিকে যায়নি।
শেষ পর্যন্ত দুই দলের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্পেন তখন ট্রফি জয়ের উৎসবে ব্যস্ত, আর আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যায়। তবে ম্যাচ-পরবর্তী এই অপ্রীতিকর ঘটনা বিশ্বকাপ ফাইনালের সৌন্দর্যে কিছুটা হলেও দাগ ফেলেছে।
ফুটবলে হার-জিত থাকবেই। বড় ম্যাচে আবেগও থাকবে। কিন্তু সেই আবেগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা খেলাটার সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দেয়। দুর্দান্ত এক ফাইনালের পর তাই স্পেনের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি শেষ বাঁশির পরের এই উত্তপ্ত ঘটনাও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। আগামী দিনে এই ম্যাচের কথা মনে পড়লে ট্রফির পাশাপাশি মাঠে ঘটে যাওয়া সেই হাতাহাতির ঘটনাও নিশ্চয়ই আলোচনায় থাকবে।




