China: চিন ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়ার সময় একটি আর্টিলারি রেজিমেন্ট মূলত সরাসরি গোলাবর্ষণের (লাইভ-ফায়ার) মাধ্যমে তাদের অগ্নিশক্তি প্রদর্শন করেছে। এছাড়া চিনা সেনাবাহিনী এই সামরিক কার্যক্রমের একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারী গোলাবর্ষণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই সামরিক মহড়ায় আরও নানা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। চিনের এই সামরিক মহড়ার স্থানটি ভারতের লাদাখ অঞ্চলের কাছাকাছি—যেখানে ২০২০ সালে ভারত ও চিনের মধ্যে গালওয়ান সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জেরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
ভারতের কাছে চিনা সেনাবাহিনীর সামরিক মহড়া
‘রেজোন্যান্ট নিউজ’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিনজিয়াং সামরিক অঞ্চলের ৪র্থ মোটরচালিত পদাতিক ডিভিশনের (ইউনিট ৬৯২২০) অন্তর্গত ফায়ারপাওয়ার রেজিমেন্ট (ইউনিট ৬৯২২৩) একটি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই রেজিমেন্টটি জিনজিয়াং অঞ্চলের আকসু প্রিফেকচারের বাইচেং কাউন্টিতে শুয়াংইয়ং রোডে মোতায়েন রয়েছে। তিব্বতের যে স্থানে এই ইউনিটটি সামরিক মহড়া চালিয়েছিল, সেখানকার জিপিএস (GPS) অবস্থান হলো ৩৩°২৩’৩৬.৯২″ উত্তর ও ৭৯°৪৬’৪১.১৪″ পূর্ব। এই স্থানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
চিনা সেনাবাহিনী কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল?
এই সামরিক মহড়ার সময় চিনা সেনাবাহিনী PCL-181 (১৫৫ মিমি গাড়িতে বসানো হাউইৎজার) এবং PCL-161 (১২২ মিমি গাড়িতে বসানো হাউইৎজার) ব্যবহার করেছিল—এগুলো হলো চাকাযুক্ত স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে পাহাড়ি ও দুর্গম ভূখণ্ডের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও, PHL-11 (১২২ মিমি মডুলার রকেট লঞ্চার) মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং HQ-17 সিরিজের ট্যাকটিক্যাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল। এ সময় চিনা সেনাবাহিনী ভারী অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যানে আক্রমণেরও অনুশীলন চালায়।
ভারত-সংলগ্ন এলাকায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে চিন
- দীর্ঘদিন ধরেই চিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদার করে চলেছে। এর আওতায় স্থল ও বিমান বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদ ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
- গত কয়েক বছরে এটি ‘লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (এলএসি)-এর কাছাকাছি বড় আকারের সামরিক পরিকাঠামোও নির্মাণ করেছে।
- তাছাড়া, ভারত-সীমান্ত বরাবর লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত চিন বিমানঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
- চিন প্যাংগং হ্রদের ওপর একটি সেতুও নির্মাণ করেছে, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের সৈন্যদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতে সহায়তা করবে।





