২০২৭ অর্থবছরেই এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে এলপিজি সাবসিডির বোঝা

নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় কল্যাণমূলক প্রকল্প এলপিজি সাবসিডির (LPG subsidy)খরচ এবার সরকারের বাজেটকে বড় চাপের মুখে ফেলতে চলেছে। আগামী অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ এই সাবসিডির মোট…

india-lpg-subsidy-fy2026-27

নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় কল্যাণমূলক প্রকল্প এলপিজি সাবসিডির (LPG subsidy)খরচ এবার সরকারের বাজেটকে বড় চাপের মুখে ফেলতে চলেছে। আগামী অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ এই সাবসিডির মোট বিল এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় বাজেটে এর জন্য মাত্র ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে বিপুল আর্থিক ঘাটতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে প্রতি এলপিজি সিলিন্ডারে সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো (ওএমসি) প্রায় ৪৯০ টাকা করে লোকসান মেটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কাছে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার এই ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই বোঝা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে।এর আগে উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় দেওয়া ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার কিংবা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল।

আরও দেখুনঃ কৌশলগত অংশীদার না অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী! আমেরিকার কাছে নয়া চ্যালেঞ্জ মোদীর ভারত

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকির সুবিধা দরিদ্র মানুষের পরিবর্তে অন্যদের কাছে চলে যাচ্ছিল। এই অপব্যবহার রোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতি বছর প্রতি সংযোগে ভর্তুকির পরিমাণ ২,৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,২০০ টাকা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, কিন্তু তা মোট ঘাটতির তুলনায় খুবই কম।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর উপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্প লাখ লাখ দরিদ্র পরিবারকে রান্নার গ্যাসের সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এর টেকসইতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওঠানামা, দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির অপব্যবহার এই তিনটি কারণ মিলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলেছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভর্তুকির সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করতে ডিবিটি (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। আধার লিঙ্কিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে ভুয়া সংযোগ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু কাটছাঁট করে সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আরও দেখুনঃ বঙ্গ জয়ের পুরস্কার? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শমীকের নাম ঘিরে জল্পনা