রেফারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেশঁর, বিদায়বেলায় তোপ স্পেন ম্যাচের পর

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর শুধু ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্নই শেষ হয়নি, শেষ হয়েছে দিদিয়ের দেশঁর…

didier-deschamps-slams-referee-after-france-loss-to-spain-FIFA World Cup-semifinal

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর শুধু ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্নই শেষ হয়নি, শেষ হয়েছে দিদিয়ের দেশঁর দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ও। তবে বিদায়ের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য। ম্যাচ শেষে এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। তাঁর দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারির পারফরম্যান্স প্রত্যাশার পর্যায়ে ছিল না।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ফাউল করেন ফ্রান্সের লুকাস ডিন। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত না হলেও রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই সবচেয়ে বেশি আপত্তি দেশঁর।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তাঁর মনে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—এই রেফারি আদৌ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচ পরিচালনার যোগ্য ছিলেন কি না। যদিও তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, শুধু হারের হতাশা থেকেই এমন মন্তব্য করছেন না। তাঁর মতে, ম্যাচের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে গিয়েছে এবং সেগুলো দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

Also Read | FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের

তবে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নিজের দলের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করেননি দেশঁ। বরং অকপটে স্বীকার করেছেন, স্পেনই ছিল দুই দলের মধ্যে অনেক বেশি সংগঠিত ও কার্যকর। তাঁর কথায়, ফ্রান্স নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারেনি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের গতি এবং রক্ষণ—সব বিভাগেই স্পেন এগিয়ে ছিল। তাই এই পরাজয়ের দায় অন্য কারও নয়, দলের নিজেদেরই।

দেশঁ বলেন, বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়নি, কারণ স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল। প্রতিপক্ষের কৌশলের সামনে ফরাসিরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। এমবাপে, দেম্বেলে কিংবা ওলিসে—কেউই নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারেননি।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হল ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দেশঁর ১৪ বছরের অধ্যায়। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ফরাসি ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তাঁর কোচিংয়েই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। এছাড়া ২০২০-২১ মৌসুমে উয়েফা নেশনস লিগও জেতে দলটি। একাধিক বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে ফাইনাল ও সেমিফাইনালে তোলার কৃতিত্বও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

Also Read | এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২৩ অ্যাথলেটিক্সে ভারতের দাপট, ৩ সোনাসহ ১৬ পদক জয়

এর আগেই দেশঁ জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। সেই ঘোষণাই এবার বাস্তব হলো। তাঁর বিদায়ের পর ফ্রান্সের ডাগআউটে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দেশের ফুটবল মহলের প্রত্যাশা, কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জে ফ্রান্সকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

দেশঁ বিদায় নিলেও তাঁর অবদান ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে তাঁর শেষ ম্যাচে রেফারিং বিতর্ক নতুন করে বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল, যা আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।