ভূমিকম্পের কয়েক সপ্তাহ আগেই সতর্কবার্তা, নতুন ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ পদ্ধতি আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

ভূমিকম্প এমন এক দুর্যোগ যা কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই হঠাৎ আঘাত হানে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় (Earthquake Prediction AI)। জীবন বাঁচাতে ভূমিকম্পের আগাম শনাক্তকরণের উপায় খুঁজে…

ভূমিকম্প এমন এক দুর্যোগ যা কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই হঠাৎ আঘাত হানে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় (Earthquake Prediction AI)। জীবন বাঁচাতে ভূমিকম্পের আগাম শনাক্তকরণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে তাঁরা এ ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য অর্জন করেছেন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সহায়তায় তাঁরা এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের কয়েক সপ্তাহ আগেই ভূগর্ভস্থ কার্যকলাপ শনাক্ত করতে এবং সতর্কবার্তা প্রদান করতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। জিএফজেড হেলমহোল্টজ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস-এর গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-ভিত্তিক একটি নতুন মডেল তৈরি করেছেন; এটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাস আগেই ভূগর্ভস্থ কর্মকাণ্ডে লুকিয়ে থাকা সতর্কতামূলক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম। এই গবেষণাটি বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল *নেচার কমিউনিকেশনস*-এ প্রকাশিত হয়েছে।

Also Read |  ২০২৭-এ জি২০ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, ২০৪০-এ চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য ইসরোর

এই নতুন এআই (AI) ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করে?

সাধারণত, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগে হাজার হাজার ছোট কম্পন অনুভূত হয়, যেগুলোকে নগণ্য বলে উপেক্ষা করা হয়। বিপুল পরিমাণ এই তথ্যের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ধরন বা প্যাটার্ন শনাক্ত করা মানুষের পর্যবেক্ষণ বা প্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যত অসম্ভব ছিল।

গবেষকরা এই কাজের জন্য ‘আনসুপারভাইজড মেশিন লার্নিং’ (unsupervised machine learning) পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, কম্পিউটারকে কোনো পূর্বনির্ধারিত প্যাটার্ন বা বিন্যাস শেখানো হয় না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিজেই ডেটা বিশ্লেষণ করে সেখানে লুকিয়ে থাকা কোনো অস্বাভাবিক বা অভিনব প্যাটার্ন খুঁজে বের করে।

বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে সেগুলোকে পরস্পর-সংযুক্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) লক্ষ্য করেছে যে, বড় কোনো ভূমিকম্পের আগে এই ছোট কম্পনগুলোর আচরণে আমূল পরিবর্তন ঘটে: এগুলো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে, দ্রুত গুচ্ছ বা ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করে এবং অধিক পরিমাণে শক্তি নির্গত করে।

Also Read | আগামী বছরের মধ্যেই কৃত্রিম সূর্য বানিয়ে তাকে লাগবে চিন

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি সফল হয়েছে

বিজ্ঞানীরা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক কিছু ভূমিকম্পের তথ্য ব্যবহার করে এই নতুন এআই (AI) মডেলটি পরীক্ষা করেছেন:

তুরস্ক – ৭.৮ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প।

চিলি – ৮.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।

ইতালি – লাকুইলা (L’Aquila) ভূমিকম্প।

এই সব ক্ষেত্রেই, মূল ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সপ্তাহ আগেই এই এআই (AI) ব্যবস্থাটি ভূগর্ভে ঘটতে থাকা বিপজ্জনক কার্যকলাপ শনাক্ত করেছিল।

তবে… সব ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেই কিন্তু সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে না!

এই গবেষণার সাথে যুক্ত অধ্যাপক প্যাট্রিসিয়া মার্টিনেজ-গারজোনের মতে, প্রযুক্তিটি যুগান্তকারী হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০১৬ সালে ইতালিতে এবং ২০২৪ সালে জাপানে আঘাত হানা ভূমিকম্পের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যখন এই এআই (AI)-কে পরীক্ষা করা হয়, তখন কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। এর অর্থ হলো, কিছু ভূ-চ্যুতি বা ফল্ট (fault) কোনো পূর্ববর্তী ভূ-কম্পনজনিত সংকেত ছাড়াই হঠাৎ ফেটে বা ভেঙে যেতে পারে।