US Space Mirror: আমেরিকা ৬০ ফুট চওড়া আয়নাযুক্ত একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’-কে (Reflect Orbital) এমন একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মহাকাশ থেকে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে রাতের বেলা পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকা আলোকিত করা। উপগ্রহটিতে থাকা আয়নাটি রাতের বেলায় পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে সূর্যের আলো পৌঁছে দেবে, যার ফলে অন্ধকার নেমে আসার পরেও সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
তবে, প্রযুক্তির এই বিশাল অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিদ ও পরিবেশবিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, কী কাজে এটি ব্যবহৃত হবে এবং এর সম্ভাব্য সুবিধাই বা কী—পাশাপাশি এ-ও দেখা যাক কেন অনেক বিজ্ঞানী এর বিরোধিতা করছেন।
প্রকল্পটি কী এবং এটি কীভাবে কাজ করবে?
রিফ্লেক্ট অরবিটাল (Reflect Orbital) তাদের প্রথম পরীক্ষামূলক উপগ্রহটির নাম দিয়েছে ‘এয়ারেন্ডিল-১’ (Earendil-1)। চলতি বছরের শেষের দিকে এটিকে ‘লো আর্থ অরবিট’ বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে।
আকার ও উচ্চতা: শুরুতে এই উপগ্রহটির আকার হবে একটি ছোট রেফ্রিজারেটরের সমান। উৎক্ষেপণের পর এটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ মাইল (৬৪০ কিলোমিটার) উচ্চতায় স্থাপন করা হবে।
আয়না স্থাপন: কক্ষপথে পৌঁছানোর পর উপগ্রহটি ৬০ ফুট (১৮ মিটার) চওড়া একটি বর্গাকার আয়না উন্মুক্ত করবে।
আলোকপাতের পরিসর: মহাকাশে স্থাপিত এই বিশাল আয়নাটি সূর্যের আলোকে নিখুঁতভাবে পৃথিবীর প্রায় ৩ মাইল (৫ কিলোমিটার) ব্যাসবিশিষ্ট একটি বৃত্তাকার এলাকায় প্রতিফলিত করবে।
বিজ্ঞানীরা কেন উদ্বিগ্ন?
বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদ এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এই অনুমোদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের উদ্বেগের প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষতি
আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর রুহি দালাল এফসিসি (FCC)-কে লেখা এক চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পটি জনস্বার্থের অনুকূল নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে দূরবর্তী নক্ষত্র ও ছায়াপথ নিয়ে গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের অন্ধকার আকাশের প্রয়োজন হয়; অথচ ৫০ হাজার উজ্জ্বল প্রতিফলকের একটি নেটওয়ার্ক বহু-মিলিয়ন ডলারের মহাকাশ বিজ্ঞান প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে পারে। কানাডার রেজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সামান্থা ললার সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো একটি দেশের পক্ষে পুরো বিশ্বের জন্য রাতের আকাশের রূপ বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।
২. সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ছন্দের মারাত্মক ব্যাঘাত পৃথিবীর সমগ্র বাস্তুতন্ত্র দিন ও রাতের স্বাভাবিক চক্রের ওপর নির্ভরশীল। রাতের বেলা হঠাৎ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে মানুষের ঘুমের চক্র ব্যাহত হবে। এর ফলে প্রাণীদের পরিযান, খাদ্যাভ্যাস এবং উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে, যা পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
৩. বিমান চলাচল ও নৌ-চলাচলের জন্য ঝুঁকি
বিজ্ঞানীরা এ বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, মহাকাশে আয়নাগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের সময় সৃষ্ট তীব্র ঝলকানি আকাশে চলাচলকারী বাণিজ্যিক বিমানের পাইলটদের মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে।





