রণংদেহি ইরান: মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোনের ঝাপটা, মৃত ১৪

ওয়াশিংটন: আমেরিকার বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধ্বংসী ড্রোন ও মিসাইল নিয়ে পালটা আঘাত হানল ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী ও রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) আজ বৃহস্পতিবার…

ওয়াশিংটন: আমেরিকার বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধ্বংসী ড্রোন ও মিসাইল নিয়ে পালটা আঘাত হানল ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী ও রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) আজ বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, তারা কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ‘কামিকাজে’ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণার পরই এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।

কোথায় কোথায় হামলা

ইরানের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের নৌ-ঘাঁটি এবং কাতারের আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্রের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হলে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও ছড়িয়ে পড়বে।”

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর জানিয়েছেন, গত দু’দিনের মার্কিন হামলায় ইরানে ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমেরিকার দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে ইরানের পালটা আক্রমণ সেই লক্ষ্যকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল।

ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি শেষ’ ঘোষণা

মঙ্গলবার তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা করেন এবং এরপর থেকেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সর্বাত্মক সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একদিকে আমেরিকার বিমান হামলা, অন্যদিকে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণ, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে।