অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় মামলায় বড় স্বস্তি তৃণমূলের, নির্দিষ্ট শর্তে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেল তৃণমূল। তবে নির্দিষ্ট কিছু…

July 21 Rally Under Legal Scrutiny; High Court Calls for Mamata Banerjee's Affidavi

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেল তৃণমূল। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনেই দলকে ফ্রিজ় হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহার করতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (TMC) এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর আদালত জানায়, হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তোলা যাবে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনি খরচের জন্যও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং আইনি খরচ ছাড়া অন্য কোনও খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, দলীয় প্রচার, বড় কোনও আর্থিক সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনও খরচের ক্ষেত্রে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, ফ্রিজ় হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে দলের প্রকৃত ব্যবহারকারীরা চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছে আদালত। ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র তখনই টাকা ছাড়বে, যখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চেক জমা পড়বে এবং স্পেশাল অফিসারের অনুমোদন থাকবে।

আদালত আরও জানিয়েছে, এই মামলায় তৃণমূলের কোন অংশ প্রকৃত বা ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না হাইকোর্ট। দলের অভ্যন্তরীণ বৈধতা বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিবেচ্য নয় বলেই জানানো হয়েছে।

তবে বর্তমানে তৃণমূলের কোন গোষ্ঠী প্রকৃত দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন চলছে। সেই বিতর্কের মধ্যে আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে যদি এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত হাইকোর্টকে জানাতে হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আদালতের এই নির্দেশকে তৃণমূলের জন্য সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় থাকার কারণে দলের নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ চালানো এবং প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের নতুন নির্দেশে অন্তত দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হল।

তবে এই সুবিধা পুরোপুরি শর্তহীন নয়। আদালত যে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা রেখেছে, তাতে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি থাকবে। ফলে দলকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। সেই শুনানিতে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।