ওয়াশিংটন: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চাপ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ছাড় (Sanctions Waiver) প্রত্যাহার করেছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
মার্কিন অর্থ দফতর (US Treasury Department) জানিয়েছে, জুন মাসে দেওয়া যে বিশেষ অনুমতির ফলে ইরান ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করতে পারত, সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) পরপর তিনটি ট্যাঙ্কারে হামলা
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UKMTO জানিয়েছে, রাতের মধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে, যার ফলে আগুন ধরে যায়। পরে আরও দুটি জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে অন্তত একটি জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে।
তিনটি ঘটনাই ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছে। সম্প্রতি ওমান নিজের উপকূল ঘেঁষে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইরান এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। তাদের অবস্থান ছিল, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে ফি আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিত।
কাতারের অভিযোগ, ইরান দায়ী
কাতার জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলির মধ্যে একটি ছিল তাদের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী ট্যাঙ্কার আল-রেকাইয়াত।
দোহা এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের উপর এটিকে “অগ্রহণযোগ্য হামলা” বলে উল্লেখ করেছে।
এরপর কাতার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা IRNA-র মাধ্যমে এক বিবৃতিতে কাতারের অভিযোগকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ওয়াশিংটনের
এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা সম্পূর্ণভাবে ইরানের আচরণের উপর নির্ভরশীল। ইরান যদি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে, তবেই তারা চুক্তির সুবিধা পাবে।
তবে একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য মার্কিন আলোচকরা এখনও “সদিচ্ছা নিয়ে” আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে আবারও অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এখনও প্রমাণ প্রকাশ হয়নি
যদিও কাতার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার ছাড় প্রত্যাহার করেছে, এখনও পর্যন্ত হামলার দায়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।





