লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আজ রাম মন্দির ইস্যুতে (Ram Temple)বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস ‘হিন্দু বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশজুড়ে ওয়াকফ বোর্ডগুলো দরিদ্র মানুষের হাজার হাজার একর জমি দখল করে রেখেছে, তখন এই দলগুলো কেন একটি কথাও বলেনি?
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “রাম মন্দির নিয়ে যখন হিন্দুদের আবেগের প্রশ্ন ওঠে, তখন এরা চিৎকার করে ‘হিন্দু বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দরিদ্র মানুষের জমি ওয়াকফ বোর্ডের নামে জবরদখল হয়েছে। তখন এদের কণ্ঠস্বর কোথায় ছিল? একটি প্রশ্নও তোলেনি। কেন?” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
আরও দেখুনঃ সিআইএ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি! ইন্দোনেশিয়ায় ধরা পড়ল ভারতীয় ব্যবসায়ী
যোগী আদিত্যনাথ আরও বলেন, রাম মন্দির শুধু একটি মন্দির নয়, এটি হিন্দু সংস্কৃতির প্রতীক এবং কোটি কোটি ভক্তের আবেগের সঙ্গে জড়িত। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর থেকে বিরোধীরা নানা অজুহাতে এর বিরোধিতা করে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস ধর্মীয় সম্প্রীতির নামে হিন্দুদের আবেগকে অবজ্ঞা করছে।
অন্যদিকে ওয়াকফ বোর্ডের জমি দখল নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তোলায় তাদের দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষের জমি ভুলভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যোগী সরকার এই বিষয়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “যেখানে দরিদ্রের জমি জবরদখল হয়, সেখানে আমরা চুপ করে থাকব না। কিন্তু রাম মন্দির নিয়ে যখন কথা ওঠে, তখন এরা ধর্মনিরপেক্ষতার ঢং করে।”বিরোধী দলগুলো অবশ্য যোগীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক উসকানি বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতারা বলছেন, রাম মন্দির ইস্যুতে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তাঁরা দাবি করেছেন, ওয়াকফ জমি নিয়ে যদি কোনো অনিয়ম হয়, তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু তা নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করা ঠিক নয়।
আরও দেখুনঃ জল চাওয়া চাতক পাকিস্তানে এবার বন্যার আঘাত হানল ভারত





