‘এখনও সময় আছে, কাজে ফিরুন’, পঞ্চায়েত কর্মীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিলীপের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের(Dilip Ghosh) পর থেকেই বহু পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকারের দাবি, প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান এখনও নিয়মিতভাবে দফতরে…

Dilip Ghosh Urges Panchayat Staff to Resume Duties, Issues Strong Warning

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের(Dilip Ghosh) পর থেকেই বহু পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকারের দাবি, প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান এখনও নিয়মিতভাবে দফতরে আসছেন না। ফলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) কড়া বার্তা দিয়েছেন নিষ্ক্রিয় পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশে।

মন্ত্রী জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সরকারি কাজ থেকে দূরে থাকা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যাঁরা বিভিন্ন কারণে অফিসে আসছেন না, তাঁরা দ্রুত কাজে ফিরুন। যদি দায়িত্ব পালন করতে না চান, তাহলে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করাই উচিত।

   

সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বহু গ্রামে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতিগত শংসাপত্র, আয়ের শংসাপত্র, বসবাসের শংসাপত্রসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন বাসিন্দারা। একইসঙ্গে নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াও অনেক জায়গায় আটকে রয়েছে। পুরনো প্রকল্পের বিল মেটানো বা কাজের অনুমোদনেও বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ।

দিলীপ ঘোষ বলেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন প্রকল্প, রাস্তা নির্মাণ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁর মতে, এর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, যাঁরা এখনও দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা সরকারি বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাচ্ছেন। সেই কারণে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত দফতরে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা উচিত।

পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। তাই মানুষের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। অফিসে এলে হয়তো কিছু বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেটাই স্বাভাবিক। সেই কারণে কাজ বন্ধ করে রাখা কোনও সমাধান হতে পারে না।

তবে অনুরোধের পাশাপাশি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শুধুমাত্র আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

দিলীপ ঘোষ Dilip Ghosh আরও বলেন, প্রশাসনের কাজ সচল রাখা সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও তাঁদের দফতরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে সরকার রাজনৈতিক ভাষ্য দিচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনিক কাজ সচল রাখা জরুরি এবং সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পঞ্চায়েত স্তরে কাজ স্বাভাবিক না হলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা কাটাতে এবার কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। নিষ্ক্রিয় পঞ্চায়েত প্রধানদের দ্রুত কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন দেখার, এই আহ্বানের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় কি না এবং গ্রামীণ প্রশাসনের কাজ কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।