পুলিশের দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও জবাব বা প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়েনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মোটরযান আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে কালীঘাট থানা থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার শেষ দিন ছিল শনিবার। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও থানায় কোনও নথি পৌঁছায়নি বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কালীঘাট থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেই দ্বিতীয়বার নোটিস জারি করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও পড়ুন: আশ্রয় থেকে অন্নসংস্থান! সেদিন তাড়া খাওয়া হিন্দুদের ত্রাতা ছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার সূত্রপাত একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী রাজীব সরকার কালীঘাট থানায় গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোটরযান আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সাংসদের গাড়ি চলাচলের সময় নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ির দরজার বাইরে ঝুলে থাকতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং মোটরযান আইনের পরিপন্থী।
আরও পড়ুন:‘মরা মাছের মত চোখওয়ালা মূর্তিমান শয়তান!’ জ্যোতি বসু নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত
অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের যাতায়াত শুধু নিরাপত্তারক্ষীদের জীবনকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে না, বরং সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেয়। চলন্ত গাড়ির বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান যে কোনও সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয় পুলিশের কাছে।
আরও পড়ুন:চন্দ্রিমার পদত্যাগ নিয়ে বিস্ফোরক সন্দীপন
অভিযোগের ভিত্তিতে কালীঘাট থানা একটি এফআইআর দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবেই সাংসদের কাছে গাড়ি সংক্রান্ত একাধিক নথি ও তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়। পুলিশ আশা করেছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা পড়বে। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত কোনও উত্তর বা নথি না পাওয়ায় তদন্তের পরবর্তী ধাপ নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম নোটিসের কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় এবার দ্বিতীয় নোটিস পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর আইনজীবীদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অভিযোগকারী রাজীব সরকার এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডিজে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তিনি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হলেও বিশেষ স্বস্তি পাননি সাংসদ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই আবহে মোটরযান আইন সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের নোটিসের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে যেসব নথি প্রয়োজন, সেগুলি সংগ্রহ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাই দ্রুত দ্বিতীয় নোটিস পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
এখন নজর থাকবে, দ্বিতীয় নোটিস পাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়। তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়লে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


