তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের জোর রাজনৈতিক জল্পনা। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর এবার প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) পদত্যাগের খবর ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সূত্রের খবর, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে দল ছাড়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে বা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
গত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন বা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এর মধ্যেই ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) নামও। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতাদের সংখ্যা কি ধীরে ধীরে কমছে?
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ। দলের সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও সফলভাবে সামলেছেন তিনি। পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কালীঘাটের বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে। ফলে হঠাৎ করে তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। যদিও সেই চিঠির বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, ব্যক্তিগত নাকি রাজনৈতিক কোনও কারণ এর পিছনে রয়েছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।


